অনেক প্রত্যাশা জাগিয়ে ইউরোপে আসছেন বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ট্রাম্প আমলের শীতল সম্পর্ক দূর করতে ইউরোপ সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন৷ ব্রিটেন, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুটিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন৷ খবর ডয়চে ভেলে’র।

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমলে অ্যামেরিকার সঙ্গে ইউরোপের সহযোগীদের সম্পর্ক বেশ শীতল হয়ে পড়েছিল৷ ওয়াশিংটনে পালাবদলের পর করোনা সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন৷ করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির পর তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরে ইউরোপে আসছেন৷ ট্রাম্প আমলের সংঘাতের নীতির বদলে আবার সহযোগিতা ও সমন্বয়ের পথে ফিরে আসতে চান তিনি৷

আট দিনের ইউরোপ সফরে বাইডেন পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলির জোটকে আরও মজবুত করতে চান৷ বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার আগ্রাসী নীতির মুখে এই ঐক্যের উপর জোর দিচ্ছেন তিনি৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আবার নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে তুলে ধরে তিনি ইউরোপের নেতাদের আশ্বস্ত করতে চান৷ চার বছরের ‘বিচ্যুতি’ পেছনে ফেলে অ্যামেরিকার প্রতি সহযোগীদের আস্থা আবার ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর বাইডেন৷ সফরের শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাতের মাধ্যমে কূটনৈতিক সংলাপের পথও খোলা রাখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷ পুটিনকে সরাসরি প্ররোচনা বন্ধ করার ডাক দিতে পারেন তিনি৷

বুধবার ওয়াশিংটন থেকে রওয়ানা হয়ে বাইডেন সবার আগে লন্ডনে পা রাখছেন৷ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অ্যামেরিকা ও ব্রিটেনের মধ্যে বিশেষ সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্রেক্সিট-পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি চাইলেও বাইডেন প্রশাসন এখনো পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো বাড়তি আগ্রহ দেখায় নি৷ বিশেষ করে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিষয়ে জনসন সরকারের নীতির প্রতি অ্যামেরিকায় সংশয় রয়েছে৷ পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে বাইডেন অ্যামেরিকার বৃহত্তর স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন৷

ইউরোপ সফরের আগে ওয়াশিংটন পোস্ট সংবাদপত্রে বাইডেন নিজের পররাষ্ট্র নীতির রূপরেখা তুলে ধরেন৷ বিশেষ করে মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মুখে তার ইউরোপ সফর সহযোগীদের প্রতি অ্যামেরিকার অঙ্গীকার আবার জোরালো করবে বলে আশা প্রকাশ করেন৷

ব্রিটেনে তিনি জি-সেভেন দেশগুলির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন৷ তারপর ব্রাসেলসে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি৷ বিশেষ করে ইউরোপের পূবের দেশগুলি রাশিয়ার আগ্রাসী মনোভাবের মুখে নিজস্ব নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অ্যামোরিকা ও সহযোগীদের কাছ থেকে আরও প্রতিশ্রুতি আদায় করতে চায়৷ জার্মানি মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আগ্রহী৷ চীনের পররাষ্ট্র নীতির মোকাবিলা করতে বাইডেন পশ্চিমা দেশগুলিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রতি আরও মনোযোগী করে তুলতে চান৷


জুমবাংলানিউজ/একেএ