in ,

আর কি খেলতে পারবেন আফগান নারীরা

ফাইল ছবি

স্পোর্টস ডেস্ক: তালেবানরা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটির নারীরা ভীতসন্ত্রস্ত। তারা আবারও ২০ বছর আগের অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন। এদিকে কাবুল গত ১৫ আগস্ট তালেবানের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকেই দেশটির নারীদের পড়াশোনা, খেলাধুলাসহ সবক্ষেত্রে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তালেবানের নতুন সরকারের ঘোষণার পর থেকে ভয় আর আতঙ্কে দেশটির নারী অ্যাথলেটদের কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে গেছেন, কেইবা দেশ ছেড়েছেন। তালেবানের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের শাসনকালে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিলো নারীদের।। এখনো সেই শঙ্কা থেকেই গেছে।

সম্প্রতি তালেবানের শীর্ষ নেতারা, নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে, এমন ইঙ্গিতও দেন। যদিও পরে তা সঠিকভাবে তথ্য তুলে ধরা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

আফগান নারীরা বলছেন, তালেবান সরকারের নিয়ন্ত্রণে তারা খেলতে পারবেন এমন কোনো আভাস পাচ্ছেন না তারা।

ভবিষ্যতে আফগান নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে কি না সেটি নিয়ে আশা জাগানিয়া কথা বলেছেন দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের নব্য চেয়ারম্যান আজিজুল্লাহ ফজলি। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি নারীদের খেলার বিষয়টি নিয়ে তালেবানের নতুন সরকারের ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

আল জাজিরার এক প্রশ্নের জবাবে আফগানিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের এই নতুন চেয়ারম্যান বলেন, আমরা তালেবানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা যেনো নারীদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ না করেন, বিশেষ করে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে। নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা কখনই নারীদের ক্রিকেট বন্ধ করার পক্ষে নই। ১৮ বছর ধরে আমাদের একটি নারী ক্রিকেট টিম রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তবে আমাদের মাথায় রাখতে হবে, ধর্ম এবং সংস্কৃতির বিষয়টি। নারীদের খেলায় অংশ নিতে বাধা নেই কিন্তু নারীদের ছোট পোশাক পড়ার বিষয়টি ইসলাম সমর্থন করে না, যেমন ফুটবল খেলার ক্ষেত্রে যেটি দেখা যায়।

সম্প্রতি তালেবানের এক নেতা বলেন, খেলাধুলা এবং রাজনীতি আলাদা রাখা হবে। যারা খেলাধুলা ভালো বোঝেন এবং এর কৌশল জানা আছে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আজিজুল্লাহ ফজলি বলেন, সরকার আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আজিজুল্লাহ বলেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার আগে প্রতিদিনই একশর বেশি মানুষ মারা যেত আফগানিস্তানে। এখন এখানে কোনো যুদ্ধ নেই, কোনো সংঘর্ষ নেই। আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ভবিষ্যত অনেক উজ্জ্বল বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের শাসনকালে নারীদের অধিকারের বিষয়গুলো ক্ষুন্ন হওয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে আন্তর্জাতিক মহলে। এবারও তালেবানের নতুন সরকারে উচ্চ পর্যায়ে ঠাঁই হয়নি নারীদের। কার্যত অচল হয়ে পড়েছে তাদের শিক্ষা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। সূত্র : আল জাজিরা