আলফাডাঙ্গায় পুলিশের ওপর হামলা : গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য ২ গ্রাম

জুমবাংলা ডেস্ক : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুই পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে দুটি গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের ধুলজুড়ি গ্রামের লোকজন গ্রেপ্তার আতঙ্কে বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে দিনের বেলায় হাতেগোনা কয়েকজন পুরুষকে দেখা গেলেও রাতে সে সংখ্যা নেমে আসে প্রায় শূন্যের কোটায়। বর্তমানে গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িতে নারী ও শিশুদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। ছোট-বড় বাজারেও অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। থানা পুলিশের দিনরাত অভিযানে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, মামলায় শতাধিকের বেশি অজ্ঞাত আসামি করার কারণেই গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হোক। নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন এ দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ধুলজুড়ি গ্রামের শিলা বেগম নামে একজন মহিলা জানান, ‘আমার স্বামী পুলিশ আহতের খবর জানেও না। কিন্তু তাকে পুলিশ এই মামলার আসামি করেছে।’

খরশেদ শেখ নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘শনিবার রাতে শহীদ শেখ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু গ্রামে পুরুষ মানুষ না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক কষ্ট হয়েছে।’

সোনিয়া বেগম নামে এক নারী জানান, সব সময় ভয়ে রয়েছি। পুলিশের ভয়ে বাড়িতে কোন পুরুষ সদস্য নেই। বেশিরভাগ পুরুষ মানুষ পালিয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

মামলা থেকে জানা যায়, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমান ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী খালিদ মোশাররফ রঞ্জুর মধ্যে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে আসছে। সম্প্রতি এ ঘটনা নিয়ে দু’পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করে। পরে মামলায় উভয়পক্ষ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় অবস্থান করে। এলাকায় এসে গত শুক্রবার (৪ জুন) সন্ধ্যা পর ইউনিয়নের ধুলজুড়ি গ্রামের বেড়িরহাট বাজারে দু’পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে থানা পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এসময় উভয়পক্ষের ইটপাটকেলের আঘাতে আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক মঞ্জুর হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন আহত হয়। এ ঘটনার পরেরদিন শনিবার আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক প্রশান্ত কুমার বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমানসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত অন্তত ১২০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় ওইদিনই ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় থানা পুলিশ। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক মঞ্জুর হোসেন ও সহকারী উপ পরিদর্শক জামাল উদ্দিন বেড়িরহাট বাজারে গিয়ে ধুলজুড়ি গ্রামের বরকত নামে এক যুবকের হাতে হাতকড়া পরায়। তখন বরকত আরেক হাত দিয়ে পুলিশ সদস্য মঞ্জুর হোসেনকে ঘুষি মারেন। ওই সময় আরেক পুলিশ সদস্য জামালউদ্দিন ওই যুবককে ধরতে এগিয়ে গেলে তাকেও তখন হাতকড়া পরা হাত দিয়ে আঘাত করে যুবক পালিয়ে যায়। সরেজমিন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র মতে ওই গ্রামে শুক্রবার কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

শনিবার আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জাজামান জানান,দুই পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদেরই গ্রেপ্তার করা হবে। এ মামলায় কাউকে হয়রানি করা হবে না। সূত্র : কালেরকণ্ঠ।


জুমবাংলানিউজ/এসআর