ইনকাম ট্যাক্সের কথা উঠলেই অনেকের মনে অজানা ভয় কাজ করে। করব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় করদাতারা অনেক সময় না বুঝেই ভুল সিদ্ধান্ত নেন। সেই ভুলের খেসারত দিতে হয় পরে—কখনো জরিমানার মাধ্যমে, আবার কখনো ব্যাংক ঋণ গ্রহণে জটিলতা, বিদেশে যাওয়ার ভিসা প্রক্রিয়ায় বাধা কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অপ্রত্যাশিত সমস্যার সম্মুখীন হয়ে।

আজ আমরা জেনে নেব- ইনকাম ট্যাক্স সংক্রান্ত ৭টি সাধারণ ভুল এবং সেগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা-
১. আয় কম হলে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন দিতে হয় না ভুল ধারণা
বাংলাদেশে করযোগ্য আয় না থাকলেও আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে। বিশেষ করে টিআইএনধারী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীদের জন্য আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেও রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে।
২. টিআইএন নেওয়ার পর আর কিছু করার নেই ভুল ভাবনা
টিআইএন নেয়া মানেই কাজ শেষ নয়। টিআইএন নেওয়ার পর নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে হবে। সময়মতো রিটার্ন না দিলে আইনত সমস্যা হতে পারে।
৩. শেষ মুহূর্তে রিটার্ন জমা দেওয়ার চেষ্টা
রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময়ের আগেই হুড়োহুড়ি করে ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ কাগজপত্র জমা দিলে পরে নোটিশ পেতে পারেন।
শুধু বেতন নয়, ভাড়া, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন আয়, ইউটিউব বা ফেসবুক থেকে আয়সহ সব বৈধ আয় দেখানো বাধ্যতামূলক।
৫. কর বাঁচাতে আয় লুকানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ
আয় গোপন করলে আইন অনুযায়ী জরিমানা ও আইনি জটিলতা হতে পারে। কর ছাড়ের জন্য সরকারি সুযোগ রয়েছে, লুকোছোপের প্রয়োজন নেই।
৬. বিনিয়োগের মাধ্যমে কর ছাড়ের সুযোগ অজানা থাকা
সঞ্চয়পত্র, জীবনবিমা, ডিপিএস ও নির্দিষ্ট বিনিয়োগ খাতে কর ছাড় পাওয়া যায়, যা অনেকেই জানেন না। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় কর দেন।
৭. কর অফিসে গেলে সমস্যা হবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই
কর অফিসে যাওয়া মানেই সমস্যা নয়। এখন অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া যায়, সাহায্য কেন্দ্র ও কর মেলা রয়েছে। সঠিক তথ্য দিলে ভয়ের কিছু থাকে না।
ইনকাম ট্যাক্স শাস্তি নয়, এটি নাগরিক দায়িত্ব। নিয়ম মেনে, সময়মতো রিটার্ন দিলে করদাতাদের জন্য সব কিছু সহজ হয়। তাই ভুলগুলো এখনই সংশোধন করলে ভবিষ্যতে বড় ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


