চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত ইরা হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি বাবু শেখকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নিতে সড়কে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেছে শতশত ক্ষুব্ধ মানুষ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এশার নামাজের পর জানাজা শেষে রাত ৯টার দিকে কুমিরা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেয় জনতা। তারা একে একে বিভিন্ন গাড়ি তল্লাশি করে ওই আসামিকে খুঁজতে থাকেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, আসামিকে পুলিশ থেকে ছিনিয়ে নিতে জনগণ রাস্তায় নেমে গেছে। পরপর দুটি পুলিশের গাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে কিন্তু সেখানে ছিল না। এভাবে একে একে অনেকগুলো গাড়ি তল্লাশি করেছে। পুলিশ আসামিকে কোন গাড়ি করে নিয়ে যাচ্ছে তার খোঁজ এখনো মেলেনি। যে আসামি ইরাকে হত্যা করেছে আমরা তাকে খুঁজছি। এই সময় সড়কের মধ্যে অনেক উৎসুক জনতাকে লাটি হাতে দেখা গেছে। যার কারণে মহাসড়কের চলাচলরত গাড়িচালক ও যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এলাকার বাসিন্দা জানে আলম বলেন, মঙ্গলবার রাতে শিশু ইরার জানাজা শেষ হওয়ার পরপর উপস্থিত লোকজনের কাছে খবর আসে পুলিশের গাড়ি করে পাষণ্ড বাবু শেখকে নিয়ে যাচ্ছে। এ খবর শুনে সবাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান করে পুলিশের গাড়ি থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে শাস্তি দেবে। শতশত মানুষ সড়কে উপস্থিত হয়ে পুলিশের গাড়ি গতিরোধ করে। কিন্তু পুলিশের গাড়িতে আসামি বাবু শেখ ছিল না। তাকে আগেই আদালতে পাঠানো হয়। এসময় সড়কে যানজট দেখা দেয়।
আলমগীর নামে মাইক্রোবাসের এক যাত্রী বলেন, উৎসুক জনতার লাঠির আঘাতে আমার গাড়ির লুকিং গ্লাস ভেঙে যায়।
ইরার মৃত্যুতে পুরো উপজেলাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। এদিন বিকেল ৩টার দিকে ইরা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী।
এ ব্যাপারে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম বলেন, আসামিকে আমরা সন্ধ্যার আগে আদালতে পাঠিয়েছি। তাতে কোনো সমস্যা হয়নি। রাতে কুমিরা এলাকায় আমাদের গাড়ি টহলে গিয়েছিল। হয়ত লোকজনের ধারণা ছিল গাড়িতে আসামি আছে।
এর আগে রোববার (২ মার্চ) দুপুরে ইকো পার্কে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তার অবস্থা অসংখ্যজনক হয় দ্রুত থাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার তার শরীরে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তখন তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয় বলে জানান চিকিৎসকরা। কিন্তু হঠাৎ গভীর রাতে তার শ্বাসনালিতে সমস্যা দেখা দিলে তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হয়। তখন দ্রুত তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র নিয়ে যাওয়া হয়। এক পর্যায়ে ডাক্তার সাড়ে ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


