
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিশোধমূলক ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৬৫তম ধাপে তারা নতুন মাল্টি-ওয়ারহেড ‘নাসরাল্লাহ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই দফায় ইসরায়েলের বৃহৎ তেল শোধনাগার—আশদোদ ও হাইফা—লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত ‘নাসরাল্লাহ’ ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বে ব্যবহৃত ‘কাদর’ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত ও গাইডেড সংস্করণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ হামলায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘ-পাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন ধরন ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাল্টি-ওয়ারহেড কাদর, খেইবার শেকান, এমাদ এবং হাজ কাসেম ক্ষেপণাস্ত্র।
আইআরজিসি দাবি করেছে, এই অভিযানে মধ্য-পাল্লার কিয়াম ও জুলফিকার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবের আল খার্জ বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি মার্কিন সামরিক যোগাযোগ ও ডাটা কেন্দ্রেও নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-জাফরা ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে গত মাসের শেষ দিকে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ শুরু করা হয় এবং শত্রুপক্ষের ‘সম্পূর্ণ পরাজয়’ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইরানের আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা নেই, দাবি নেতানিয়াহুর
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, হাইফা, কিরিয়াত, কারমেল এবং গোলান মালভূমি এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাংকার থেকে ব্রিফিং করেন।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও বিমান চলাচলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে দেশটির বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ৫০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলের জাতীয় বিমান সংস্থা এল আল ২১ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া ইসরায়ার এয়ারলাইনও ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত করেছে এবং নতুন টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে।
এদিকে হামলার পর ইসরায়েলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিমানবন্দর, টিকিট কাউন্টার এবং সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কায় অনেকেই দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
সূত্র: প্রেস টিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


