ইরানের অভ্যন্তরে বিধ্বস্ত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে ইসরায়েল সরাসরি সহায়তা করেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় নেতানিয়াহু জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ‘শত্রু ভূখণ্ড থেকে ভূপাতিত পাইলটকে উদ্ধারে সাহসী সিদ্ধান্ত ও নিখুঁত মার্কিন মিশনের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন’।
এই ফোনালাপে ট্রাম্প উদ্ধার অভিযানে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পাওয়া সহযোগিতার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলেও নেতানিয়াহু তার পোস্টে উল্লেখ করেন।
সপ্তাহান্তের রাতভর পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে মার্কিন কমান্ডোরা ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ ওই পাইলটকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এর আগে ইরানের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর টানা দুই দিন ধরে নিবিড় অনুসন্ধান চালায় মার্কিন বাহিনী।
উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য বর্তমানে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। নেতানিয়াহু এই সাফল্যের অংশীদার হতে পেরে গর্ব প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত যে যুদ্ধক্ষেত্রে এবং এর বাইরে আমাদের এই সহযোগিতা নজিরবিহীন এবং একজন সাহসী মার্কিন যোদ্ধাকে বাঁচাতে ইসরায়েল অবদান রাখতে পেরেছে।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান বরাবরই তাদের আকাশসীমায় বিদেশি হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে আসছে, সেখানে মার্কিন পাইলট উদ্ধারে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য বা লজিস্টিক সহায়তার বিষয়টি তেহরানকে আরও ক্ষুব্ধ করতে পারে।
নেতানিয়াহু তার বিবৃতিতে বারবার ‘নজিরবিহীন সহযোগিতা’ শব্দের ওপর জোর দিয়েছেন, যা দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতাকেই নির্দেশ করে। তবে ঠিক কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সহায়তা ইসরায়েল প্রদান করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে পাইলট উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ইসরায়েলি ভূমিকার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও মার্কিন জোটের মধ্যে তীব্র আকাশযুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন পাইলট উদ্ধারের এই সফল মিশন ওয়াশিংটনের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমর্থন তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এই উদ্ধার অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


