টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় থেকেই উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আলোচনা থামেনি। তাঁর অস্বাভাবিক থামা-চলা মিশ্রিত ডেলিভারি অনেক ব্যাটারের মনোযোগ নষ্ট করেছিল বলেই মনে করেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তবে আশ্চর্যের বিষয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়াররা কখনও তাঁর অ্যাকশন নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেননি।

এই প্রেক্ষাপটেই শ্রীলঙ্কার স্কুল ক্রিকেটে ঘটল এক অন্যরকম ঘটনা। বহু পুরনো, ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিযোগিতায় রিচমন্ড কলেজের তরুণ স্পিনার নেথুজা বাসিথা ঠিক তারিকের মতো বল করার চেষ্টা করেন। বল ছোড়ার আগে কয়েক সেকেন্ড থেমে গিয়ে তিনি ডেলিভারি সম্পন্ন করেন, যা স্বাভাবিক ছন্দের বাইরে।
কিন্তু এখানেই ঘটে মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। আম্পায়ার নেথুজার এই থামাকে মেনে নেননি। বল ব্যাটারের কাছে পৌঁছানোর আগেই হাত তুলে ‘ডেড বল’ ঘোষণা করেন। মাঠে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন অ্যাকশন আগে চোখে পড়লেও এভাবে থামিয়ে দেওয়া বিরল।
ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক নয়। ‘Marylebone Cricket Club’–এর ৪১.৪ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, যদি বোলার ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাটারের মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করেন, তাহলে আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ডাকতে পারেন। প্রয়োজনে ব্যাটিং দলকে অতিরিক্ত রান দেওয়ার বিধানও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেথুজা সম্ভবত তারিকের স্টাইল অনুসরণ করতে গিয়েই এই সমস্যায় পড়েন। তবে তারিক নিজে সাধারণত এতটা দীর্ঘ সময় থামেন না, যা ম্যাচের গতিকে স্পষ্টভাবে প্রভাবিত করে। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটাই এখানে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উসমান তারিক বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ভারতসহ একাধিক দলের বিরুদ্ধে তাঁকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল মেলেনি। বিশেষ করে সুপার এইট পর্বে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তাঁর বোলিং বেশ খরুচে ছিল।
এই ঘটনার পর ক্রিকেট মহলে আবারও প্রশ্ন উঠছে—অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশনের সীমা কোথায় টানা উচিত? তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এটি একটি শিক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যেখানে কৌশল অনুকরণ করার আগে তার নিয়মগত দিকগুলো বোঝা জরুরি।
আরও পড়ুনঃ
বর্তমানে নেথুজা বাসিথা ওই ম্যাচের পর একই ধরনের অ্যাকশন বজায় রেখেছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি দেখিয়ে দিল, ক্রিকেটে সৃজনশীলতার পাশাপাশি নিয়মের ভারসাম্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


