একটি আশ্চর্য মসজিদ ও তার ইতিহাস

সাজ্জাদুল আলম শাওন, জামালপুর থেকে: মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) আগমনের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে শান্তির বানী প্রচার হতে শুরু করেন। আইয়েমে জাহিলিয়াতের যুগ ধ্বংস হয়ে সৃষ্টি হয় মানবতার যুগ। যেখানে কোন হিংসা, বিদ্ধেশ, হানাহানী ও মারামারি নেই। পৃথিবীতে নেমে আসে এক শান্তির ছায়া। ধীরে ধীরে এই শান্তির বানী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামের এই বিকাশের সাথে সাথে আমাদের এই উপমহাদেশেও প্রচুর সূফী সাধকের আগমন ঘটে। নিজেদের আস্তানা এবং নামাজের জন্য তারা মসজিদ নির্মান শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের এই ভুখন্ডে প্রচুর মসজিদ নির্মিত হয়। আমাদের এই ভূখন্ডে তেমনি কিছু বিখ্যাত মসজিদ ষাট গম্বুজ মসজিদ। যা বাগেরহাটে নির্মাণ করেন সূফী খান জাহান আলী, বাবা আদম মসজিদ যা মুন্সিগঞ্জ জেলায় বাবা আদম (রঃ) নির্মাণ করেন, বাঘা মসজিদ, লাল দিঘি মসজিদ, খানিয়া দিঘিসহ আরো অসংখ্য মসজিদ তারা নির্মাণ করেন।

সেই সকল মসজিদগুলো তখনকার দিনে শুধুমাত্র নামাজই ছিল না বরং প্রাচীন শিক্ষা কেন্দ্রও ছিল। তখনকার দিনে মসজিদে সমাজের বিভিন্ন বিচার কার্য সম্পাদন করা হতো। সেসময় আমাদের এই ভূখণ্ডে প্রচুর মসজিদ নির্মাণ শুরু হয়। অনেক মসজিদগুলোর সঠিক ইতিহাস এখন পর্যন্ত অজানা। তেমনি একটি ঐতিয্যবাহী প্রাচীনতম মসজিদ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানীতে অবস্থিত। যা স্থানীয়ভাবে চিকাজানী প্রাচীন মসজিদ নামেই পরিচিত। আবার কেউ কেউ এই মসজিদটিকে আজগবি মসজিদ নামেও চিনে থাকেন। অনেকেই ধারনা করেন এই মসজিদ টি মাটির নিচ থেকে অলৌকিক ভাবে গড়ে উঠছে। এক সময় মসজিদে ফার্সি কিতাবের প্রচলন ছিল। তাই অনেকেরই ধারণা ফার্সি শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে মসজিদটি ব্যবহৃত হত।

ধারণা করা হয়, খাঁন জাহান আলী (রহঃ) এর অনুসারীরা ১৫০০ শতাব্দীর শেষের দিক এই অঞ্চলে ধর্ম প্রচারের জন্য আগমন করেন। সে সময়ে তারা খরস্রোতা চন্দ্রা নদীর চন্দনপুরা ঘাটে বসতি স্থাপন করেন। তারা খাঁন জাহান আলী (রহঃ) মাজারের নকশার আদলে মসজিদটি স্থাপন করেন। চিকাজানীর এই প্রাচীন মসজিদ সম্পর্কে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধা তারেক জানান, রাজখুরিয়া গেন্দা নামে এই অঞ্চলে একজন ভূস্বামী ছিলেন। তিনি একজন মুসলিম সাধক ফকিরের আধ্যাত্নিকতায় মুগ্ধ হয়ে সপরিবারে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্মের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যের জন্য আশেপাশে ৩০ বিঘা জমি নিয়ে একটি মসজিদ নির্মানের সিদ্ধান্ত নেন। তার সিদ্ধান্তের প্রতিচ্ছবি হচ্ছে আজকের এই মসজিদ। মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কবর রয়েছে। কবর দু’টি যথাক্রমে তার ছেলে শেখ জালাল এবং শেখ ফরিদের। সূত্র : বিডি২৪লাইভ।


জুমবাংলানিউজ/এসআই