বিশ্বব্যাংক

Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে যে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে তার মধ্যে বিশ্বব্যাংক রয়েছে শীর্ষ স্থানে। ৫২ বছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ঋণ দিয়েছে ২৪.৫৮৩ বিলিয়ন ডলার। শতাংশের হারে তা বাংলাদেশের মোট ঋণের ৩০.৮০ শতাংশ।

ঋণ ছাড়ের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।তারা ঋণের অর্থছাড় করেছে ২১.৩৬৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ২৬.৭৭ শতাংশ।

তৃতীয় স্থানে থাকা জাপান বাংলাদেশকে এ পর্যন্ত ঋণ দিয়েছে ১৫.৩০৩ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ১৯.১৭ শতাংশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডির) দেওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই হিসাব পাওয়া গেছে।

ইআরডির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৭১-৭২ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ৫২ বছরে বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশ ঋণ পেয়েছে ৭৯.৮২৫ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে গত অর্থবছর পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে ১৭.৪১৯ বিলিয়ন ডলার। আর গত জুন শেষে সরকারের বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬২.৪০৬ বিলিয়ন ডলার। ঋণের মাত্র সাড়ে ২০ শতাংশ ভারত, চীন ও রাশিয়া থেকে এসেছে। এ ক্ষেত্রে শীর্ষ তিনটি স্থানে রয়েছে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাপান।

ঋণ ছাড়ের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৭.৯৮৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে, যা মোট ঋণের ১০.১ শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা রাশিয়া গত জুন পর্যন্ত ঋণ ছাড় করেছে ৬.৭৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের ঋণের ৮.৪৯ শতাংশ।

শীর্ষ পাঁচের পরের অবস্থানে থাকা দেশ ও সংস্থাগুলোর ঋণের পরিমাণ তুলনামূলক কম। ঋণ দেওয়ায় ষষ্ঠ স্থানে থাকা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক (এআইআইবি) গত জুন পর্যন্ত ছাড় করেছে ১.৭৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ছাড়কৃত ঋণের ২.২৩ শতাংশ।

ঋণ দেওয়ায় সপ্তম স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ভারত। গত জুন পর্যন্ত দেশটি ছাড় করেছে ১.৬৬৪ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ছাড়কৃত ঋণের ২.৮ শতাংশ। আর অষ্টম স্থানে থাকা ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) গত জুন পর্যন্ত ছাড় করে ১.২০৮ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ছাড়কৃত ঋণের ১.৫১ শতাংশ। বাকি দেশগুলোর ঋণ এক বিলিয়ন ডলারের কম।

এদিকে বৈদেশিক ঋণ স্থিতির ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে বিশ্বব্যাংক। গত জুন পর্যন্ত এ সংস্থাটির ঋণ স্থিতির পরিমাণ ছিল ১৯.২৫৭ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ৩০.৮৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এডিবির গত জুন পর্যন্ত ঋণ স্থিতি দাঁড়ায় ১৪.৪২০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ২৩.১১ শতাংশ। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০.৪৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ১৬.৭২ শতাংশ।

শীর্ষ তিন উৎসর বেশির ভাগ ঋণই সহজ শর্তের। এর মধ্যে জাপান সরকার বাংলাদেশকে সবচেয়ে কম সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ দেয়। পরের অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রায় সব ঋণই সহজ শর্তে। তবে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার জাপান সুদের হার সামান্য বৃদ্ধি করেছে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির ঋণের সুদহারও আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশকে কিছু কঠিন শর্তের ঋণপ্রস্তাব করেছে সংস্থাটি দুটি। স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের সুদহার আরো কিছুটা বাড়বে বলেই প্রক্ষেপণ করেছে ইআরডি।

গত জুন পর্যন্ত চতুর্থ অবস্থানে থাকা চীনের ঋণ স্থিতি ছিল ৫.৫৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ৮.৯৪ শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা রাশিয়ার গত জুন পর্যন্ত ঋণ স্থিতি দাঁড়ায় ৫.৯৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের ঋণের ৯.৬০ শতাংশ। এ দুই দেশের ঋণের শর্ত কঠিন এবং সুদহার অনেক বেশি। কঠিন শর্তের এসব ঋণ পরিশোধ নিয়ে চাপে রয়েছে বাংলাদেশ।

এদিকে নতুন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হিসেবে এআইআইবি বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়া বাড়াচ্ছে। গত জুন শেষে সংস্থাটির ঋণ স্থিতি দাঁড়ায় ১.৭৬১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট বিদেশি ঋণের ২.৮২ শতাংশ। সপ্তম স্থানে থাকা ভারতের ঋণ স্থিতি ছিল গত জুন পর্যন্ত ১.৩০৭ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ঋণের ২.০৯ শতাংশ। আর অষ্টম স্থানে থাকা আইডিবির ঋণ স্থিতি গত জুন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৬৯০ মিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ঋণের ১.১১ শতাংশ। এ তিনটির মধ্যে এআইআইবি ও ভারত সহজ শর্তে ঋণ দিলেও আইডিবির ঋণের সুদহার বেশি হয় এবং পরিশোধ সময়ও কম পাওয়া যায়।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশের পাশে উন্নয়ন সহযোগীদের বরাবরই বিশ্বব্যাংক এগিয়ে ছিল। তারা স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের সহযোগিতা করে আসছে। তবে এখন বিশ্বব্যাংক থেকে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে ঋণ পাওয়া কষ্টকর হবে। সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে। আবার সার্বিক বিবেচনায় আমাদের ঋণ পরিশোধেরও চাপ বাড়ছে, এসব বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যে প্রকল্পের আওতায় ঋণ আসছে সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

যে কারণে পাঠ্য বইয়ে যুক্ত হচ্ছে ফিলিস্তিন অধ্যায়

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Bhuiyan Md Tomal is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He works to ensure accuracy, clarity, and consistency in published content for digital audiences. His approach reflects a commitment to responsible journalism and quality reporting.