in

এবার সব চীনা স্মার্টফোন খুলে পরীক্ষা করবে ভারত

প্রতীকী ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নাগরিকদের কাছ থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে তথ্য চুরির চেষ্টা করছে চীন। দীর্ঘদিন ধরে এমন সন্দেহ ভারত সরকারের। এজন্য একটি আইনও তৈরি করতে চলছে দেশটির কেন্দ্র। নতুন এ আইনটি পাস হলে সব চীনা স্মার্টফোন খুলে পরীক্ষা করে দেখা হবে। খবর ইকনমিক টাইমস, এই সময়’র।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্মার্টফোন পরীক্ষার জন্য বিশ্বাসযোগ্য কিছু কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কথা ভাবছে ভারত। কোনোভাবে চীনের তৈরি স্মার্টফোনের মাধ্যমে দেশটির ওপর নজরদারি চলছে কি না, তা জানার জন্যই মূলত কাজটি করতে চলেছে ভারত সরকার। ভারত-চীন সীমান্তে চীনের আগ্রাসনে মোকাবিলা করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ কাজে যুক্ত একটি সূত্র সংবাদমাধ্যম ইকনমিক টাইমসকে জানিয়েছে, এ কাজের জন্য চীনের ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনগুলোর ওপর আলাদাভাবে নজর দেওয়া হবে। তবে কোম্পানিগুলোকে ভয় দেখানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়নি ভারত। মূলত দেশের মানুষের তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ না করলে কোম্পানিগুলোর আতংকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এ ধরনের আইন প্রণয়নের জন্য ভারতের ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জাতীয় প্রযুক্তিগত গবেষণা সংস্থা ও অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে হাত মেলাতে পারে। খবরে বলা হয়েছে, এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আলোচনা চলছে।

গত বছর জুনে চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান সীমান্তে ২০ ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়। তারপর পুরো ভারতে চীনা পণ্য বয়কট করার ডাক দিয়েছিলেন অনেকেই। এমন কি রাস্তায় চীন বিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করেন মানুষ। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে চীনা পণ্য নিষিদ্ধ করা না হলেও প্রতিবাদের কারণে অনেকেই চীনে তৈরি পণ্য কেনা বন্ধ করে দেন। এ কারণে ৫জি নেটওয়ার্ক সরঞ্জামেও চীনা কোম্পানির তৈরি যন্ত্রাংশ বর্জন করে একাধিক কোম্পানি।

এয়ারটেল চেয়ারম্যান সুনীল মিত্তাল জানিয়েছেন, টাটার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ৫জি ট্রায়াল শুরু হয়ে যাবে। পরে বাণিজ্যিকভাবে পুরো ভারতে লেটেস্ট নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি শুরু করবে কোম্পানিটি। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেডকে ৪জি স্ট্যাক সরবরাহ করছে টিসিএস। পাশাপাশি আবার ৫টি স্ট্যাক তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে রিলায়েন্স জিও। ফলে আরও সস্তা হবে ৫জি নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ। এয়ারটেল ছাড়াও ভারতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫জি নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ শুরু করেছে দিয়েছে রিলায়েন্স জিও।