অর্থনীতি-ব্যবসা আন্তর্জাতিক স্লাইডার

এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী মন্দা কাটার পূর্বাভাস

অর্থনীতি ডেস্ক : সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনাগুলো ও মুদ্রানীতি প্রশমিত হওয়ায় আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস করেছে মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলি। এর মধ্য দিয়ে গত সাত প্রান্তিকের নিম্নমুখী প্রবণতায় ছেদ পড়বে।

গ্লোবাল আউটলুক ২০২০ প্রতিবেদনে মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা জানান, প্রশমিত বাণিজ্য উত্তেজনা (যা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি পতনের প্রধান কারণ) ব্যবসায় সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা হ্রাসের পাশাপাশি নীতি উদ্দীপনাগুলোকে আরো কার্যকর করবে। চলতি বছরের ৩ শতাংশের তুলনায় আগামী বছরের জন্য ৩ দশমিক ২ শতাংশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস করেছে ব্যাংকটি।

এদিকে চলতি বছর শেষে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ছয় বছরের সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়াবে বলে জুলাইয়ে পূর্বাভাস করেছিলেন ব্যাংকটির বিশ্লেষকরা। তবে এ মুহূর্তে পরিস্থিতি সামান্য পুনরুদ্ধার হতে দেখায়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৩ শতাংশ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আশা করছেন তারা।

মরগান স্ট্যানলির প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, প্রবৃদ্ধি পতন শুরুর পর প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক উত্তেজনা ও মুদ্রানীতি প্রশমিত হওয়ায় আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ঘুরে দাঁড়ানো উচিত। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে মুদ্রানীতি প্রশমনের গতি বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া গত ১২ মাসে বিশ্বের ২০টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি শিথিল করেছে। আগামী বছরের মার্চ নাগাদ গড় সুদহার সাত বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছাবে বলে আমরা আশা করছি।

তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ঘুরে দাঁড়ানো অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনার ফল ও মার্কিন প্রশাসনের আগামী দফা শুল্কারোপের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। উল্লেখ্য, ১৫ ডিসেম্বর থেকে আগামী দফার শুল্কারোপ বাস্তবায়নের কথা। যদি শুল্ক কার্যকর হয়, তবে চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াবে এবং ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আগে প্রবৃদ্ধির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে না বলে মরগান স্ট্যানলি জানিয়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউজের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কুডল উভয়পক্ষ একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে বলে জানানোর পর, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে আশাবাদে শুক্রবার ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ রেকর্ড উচ্চতায় উঠতে দেখা যায়। এছাড়া শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, চুক্তির ‘প্রথম পর্যায়’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হয়েছে।

যদিও শুল্কারোপ প্রশমন নিয়ে হোয়াইট হাউজে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, চীনা রফতানির ওপর প্রশাসনের আরোপিত কোনো ধরনের শুল্ক বাতিলে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন। অন্যদিকে বেইজিংও ৫ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার প্রতি খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করলে অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে উদীয়মান বাজারগুলোর প্রবৃদ্ধি উন্নত বাজারগুলোর তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করছে মরগান স্ট্যানলি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত সুদহার কর্তন এর প্রধান কারণ। ২০২০ সালে ১৩টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার আরো কমাবে বলে মরগান স্ট্যানলি প্রত্যাশা করছে। আর উদীয়মান বাজারগুলোতেই সুদহার কর্তন কেন্দ্রীভূত থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন ব্যাংকটি। এর মধ্যে ভারত, ব্রাজিল ও রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মুদ্রানীতি শিথিল করে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট-পরবর্তী সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মরগান স্ট্যানলির পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি বছর ভারতের গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৫ শতাংশ এবং ২০২০ ও ২০২১ সালে তা বেড়ে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৩ ও ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে মন্থর প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে বলে পূর্বাভাস করেছে মার্কিন ব্যাংকটি। প্রতিবেদন অনুসারে আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে ১ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

সূত্র : সিএনবিসি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।



জুমবাংলানিউজ/পিএম




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


সর্বশেষ সংবাদ