কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’ ও এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে করা ইলন মাস্কের মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। মাস্কের অভিযোগ ছিল, মানবজাতির কল্যাণে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও ওপেনএআই-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে গোপনে অর্থ উপার্জনের ব্যবসায় নেমেছেন।

তবে আদালত জানিয়েছে, মামলা করতে অনেক দেরি করে ফেলেছেন মাস্ক।
২০১৫ সালে যখন ওপেনএআই যাত্রা শুরু করে, তখন ইলন মাস্ক ছিলেন এর অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা। শুরুর বছরগুলোতে এই সংস্থায় তিনি প্রায় ৩৮ মিলিয়ন (৩ কোটি ৮০ লাখ) ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই কম্পানিটিই ‘চ্যাটজিপিটি’ তৈরি করে।
ইলন মাস্কের মূল অভিযোগ ছিল, চ্যাটজিপিটি জনপ্রিয় হওয়ার পর ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান ও তার সহযোগীরা অন্যায়ভাবে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছেন। মাস্কের দাবি, একটি দাতব্য বা জনকল্যাণমূলক ট্রাস্টের অর্থ অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা এক প্রকার অর্থ চুরি। তিনি স্যাম অল্টম্যানকে ওপেনএআই-এর বোর্ড থেকে অপসারণ এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড আদালতে টানা তিন সপ্তাহ ধরে এই মামলার শুনানি চলে।
চূড়ান্ত পর্যায়ে মাত্র দুই ঘণ্টা আলোচনার পর নয় সদস্যের জুরি বোর্ড এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, মামলা করার নির্ধারিত আইনি সময়সীমা মাস্ক পার করে ফেলেছেন। জুরিদের এই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্স সোমবার (১৮ মে) ইলন মাস্কের সমস্ত দাবি খারিজ করে চূড়ান্ত রায় দেন।
স্যাম অল্টম্যান ও ওপেনএআই আদালতে দাবি করেন যে, এই কম্পানিকে চিরকাল অলাভজনক রাখার কোনো লিখিত প্রতিশ্রুতি কাউকেই দেওয়া হয়নি। উল্টো ওপেনএআই-এর আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ইলন মাস্ক ২০২৩ সালে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী এআই কম্পানি ‘এক্সএআই’ চালু করেছেন। মূলত ওপেনএআই-এর দ্রুত অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করা এবং নিজের কম্পানির সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই মাস্ক এই ভিত্তিহীন মামলাটি করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ
এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশ্বের অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্ব সাক্ষ্য দিয়েছেন, যাদের মধ্যে মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলাও ছিলেন। বিচার চলাকালীন প্রকাশ পায় যে, বর্তমানে ওপেনএআই-এর মোট মূল্যমান প্রায় ৮৫২ বিলিয়ন ডলার এবং কম্পানিটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বিপুল সম্পদের কারণেই মূলত দুই প্রাক্তন মিত্রের মধ্যকার বিভেদ চরম আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
সূত্র : এনডিটিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



