in ,

করোনাকালে এক বিদ্যালয়ের ৬০ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে


জুমবাংলা ডেস্ক : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেড় বছরের অধিক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ও দারিদ্র্যের কারণে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া অনেক ছাত্র বিভিন্ন জায়গায় শিশু শ্রমিকের কাজ করছে। শুক্রবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আল মামুন জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, টাঙ্গাইল শহর থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে যমুনার চরাঞ্চলে হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে আসা বেশির ভাগ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের। এ অঞ্চলে বাল্যবিয়ের প্রবণতা আগে থেকেই বেশি। বাল্যবিয়ের কারণে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী ঝড়ে যায়। তবে করোনাকালে অনেক বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী বিয়ের কারণে ঝড়ে গেছে। স্কুল সূত্র জানায়, এ বিদ্যালয়ে মোট ১ হাজার ৫৫৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯০ জন ছাত্রী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আল মামুন জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুপস্থিত ছাত্রীদের মধ্যে প্রায় ৬০ জনের বাল্যবিয়ে হয়েছে। প্রায় ৩০ জন ছাত্র দারিদ্র্যের কারণে বিভিন্ন জায়গায় কাজ নিয়েছে।

তিনি আরো জানান, এলাকায় বাল্যবিয়ের প্রবণতা আগে থেকেই রয়েছে। বিদ্যালয় খোলা থাকলে শিক্ষকরা মিলে ছাত্রীর বিয়ের উদ্যোগ বন্ধ করতেন। অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে না দিতে উদ্বুদ্ধ করতেন। এছাড়াও এ বিদ্যালয়লের অন্তত ২০ জন ছাত্র দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা বাদ দিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে।

গীতিকার, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মাসুম ফেরদৌস জানিয়েছেন, দারিদ্রতা, সংসারের অভাব-অনটন ও পারিবারিক এবং সামাজিক অসচেতনার কারণে অপ্রাপ্ত বয়সে ছাত্রীদের বিয়ে দিয়ে দেন তার বাবা-মা। শুধু চরাঞ্চলের এই হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয় নয়, জেলার ১৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭৮৬ স্কুল, মাদ্রাসা এবং কলেজের চিত্রও একই রকম হবে বলে তিনি জানান।

বাল্যবিয়ের শিকার কাশিনগর গ্রামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় বাবা-মা তাকে বিয়ে দিতে পেরেছেন। ওই শিক্ষার্থীর কৃষক বাবা জানান, তিনি দরিদ্র মানুষ। ভালো পাত্র পেয়েছেন, তাই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।

হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান জানান, সবাই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশি ব্যস্ত ছিল। এই সুযোগে অনেক অসচেতন অভিভাবক তার নাবালক মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে এত বেশি সংখ্যক বিয়ে হতো না। স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও বাল্যবিয়ে বন্ধে ভূমিকা রাখতেন।

মানব প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক মানবাধিকার কর্মী মাহমুদা শেলী জানান, একটি বিদ্যালয়ের এত সংখ্যক ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছেন। তাহলে চরাঞ্চলের অন্যান্য স্কুলগুলোতেও নিশ্চয়ই এই হারে বাল্যবিয়ে হয়েছে। বাল্যবিয়ের শিকার এসব ছাত্রীদের চিহ্নিত করে স্কুলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও কম বয়সী মেয়েদের যারা বিয়ের রেজিস্ট্রি করিয়েছেন, সেই সব নিকাহ রেজিস্ট্রারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, বাল্যবিয়ে ও ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ শেষে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যাবে।