জাতীয় স্বাস্থ্য স্লাইডার

করোনাভাইরাস নিয়ে গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান

জুমবাংলা ডেস্ক: চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘নানা ধরনের গুজব’ ছড়ানো হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে একটা স্বার্থান্বেষী মহল ডাল এবং ব্রয়লার মুরগির মাধ্যমে দেশে করোনাভাইরাস ছড়ানোর গুজব তৈরির চেষ্টা করছে বলে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জুমবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেহেতু করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক শুরুর পর এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজনদের পরীক্ষা করে কারও শরীরে এ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি, সেহেতু এ ভাইরাস নিয়ে যে কোনও গুজবের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার প্রতিদিন করোনাভাইরাস নিয়ে ব্রিফিং করার পরেও গুজব সৃষ্টি করছে একটি মহল। মহলটি করোনাভাইরাসের কথা বলে বিভিন্ন পণ্যের দামও বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। এই চক্রের বিরুদ্ধেও সবাইকে সচেতন থাকতে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে মন্তব্য করে এ ধরনের প্রচারে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলো জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে। বাংলাদেশের অমুক জেলায় করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে, এমন খবরও দেখেছি, যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই।’

এজন্য করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে সেটা ভালভাবে যাচাই করে নেয়ার পরামর্শ দেন মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

এছাড়া করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কোথাও বলা হচ্ছে, রসুন, লবঙ্গ, আদাজল খেলে করোনাভাইরাস ভালো হয়। এ নিয়ে অনেকে বিভিন্ন ওষুধের বিজ্ঞাপনও প্রচার করছেন। যেগুলোর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

এ ব্যাপারে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে এমন কোনও ভ্যাকসিন বা টিকা এখনো আবিষ্কার হয়নি। এ রোগের আলাদা চিকিৎসা পদ্ধতিও বের হয়নি। সাধারণ সর্দি কাশি বা শ্বাসকষ্টে যে ধরণের চিকিৎসা দেয়া হয়। বিশ্বব্যাপী সেটাই দেয়া হচ্ছে। তাই গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না।’

আজ এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস সন্দেহে দেশে এ পর্যন্ত ৬১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের কারোর মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। এছাড়া আরও তিনজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যেগুলোর ফলাফল এখনো হাতে পাওয়া যায়নি।’

অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত বাংলাদেশি দুই নাগরিকের একজন আইসিইউতে আছে, অন্যজন সাধারণ আইসোলেশন এমএ তে ভর্তি আছেন। বাকি ১০ জনও সিঙ্গাপুর সরকারের ব্যবস্থাপনায় কোয়ারারেন্টাইনে রয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি খরচে সম্প্রতি চীনের উহানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তারা সবাই সুস্থ আছেন। দেশে এখনো করোনার রোগী শনাক্ত হয়নি। সুতরাং উদ্বেগের কিছু নেই।’

চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর নভেল করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত সেখানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩১০ জনে। চীনের মূল ভূখণ্ডে মোট মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ১৩৫৫ জন। হংকং ও ফিলিপাইনে দু’জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও। ডাউনলোডকরুন : http://bit.ly/2FQWuTP




জুমবাংলানিউজ/এইচএম


আপনি আরও যা পড়তে পারেন


rocket

সর্বশেষ সংবাদ