Coronavirus (করোনাভাইরাস) জাতীয় স্লাইডার

করোনার কমিউনিটি সংক্রমণ ঠেকাতে মরিয়া সরকার, জোরদার সেনা তৎপরতা

কাদির কল্লোল, বিবিসি বাংলা (ঢাকা): বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষকে ঘরে রাখার জন্য লকডাউনের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে বৃহস্পতিবার থেকে সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে করোনার পরীক্ষা কার্যক্রমও সম্প্রসারণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, কমিউনিটি সংক্রমণের বিস্তার যেনো না হয়, সেজন্য সরকারের নীতির বা দু’টি সিদ্ধান্তে বড় ধরণের এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষক বলেছেন, করোনার পরীক্ষা এতদিন সীমিত পর্যায়ে হওয়ায় সমাজের আসল চিত্র পাওয়া যায়নি, সেজন্য সরকার অনেকটা বিলম্বে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

সারাদেশেই অনেক জায়গা থেকে ঘরে না থেকে লোকজনে রাস্তায় বেরুনো বা সরকারি নির্দেশ না মানার অভিযোগ আসছিল।

এই পটভূমিতে লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে থাকা সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

বুধবার সরকার সামাজিক দূরত্ব রক্ষা বা মানুষকে ঘরে রাখার কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সিলেট থেকে একজন সমাজকর্মী ইন্দ্রানী সেন শম্পা বলছিলেন, তাদের নগরীর অলিগলিতেও এখন সেনাবাহিনী এবং পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।

“লকডাউনের মধ্যেই গত কয়েকদিন সিলেটের বিভিন্ন রাস্তায় অনেক মানুষের চলাচল দেখা গেছে। তারা কাজে যাওয়ার জন্য তৎপর ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে আজকে আমরা লক্ষ্য করলাম যে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের তৎপরতা অনেকে বেশি।”

“প্রতিটা অলিগলিতে তারা টহল দিচ্ছে এবং হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করছে। তারা বাঁশি বাজিয়ে রাস্তা থেকে মানুষকে চলে যেতে বলছে। তাদের সাজোয়া বহর অনেক সময় টহল দিয়ে সাইরেন বাজাচ্ছে, যাতে মানুষ রাস্তায় না থাকে।”

চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, বগুড়া এবং রংপুরসহ অন্যান্য জেলা থেকেও সেনাবাহিনীর তৎরতা জোরদারের একই ধরণের চিত্র পাওয়া গেছে।

রাজধানী ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় যানবাহন এবং মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, মাঠে এখন এই জোরদার তৎপরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপও নেবে, এমন সিদ্ধান্ত সরকারের রয়েছে।

দেশের ৬২টি জেলায় সেনাবাহিনী এবং উপকূলীয় ১৯টি উপজেলায় নৌবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তা দিতে কর্মকান্ড চালাচ্ছে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর এর পরিচালক লে: কর্ণেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ বলছিলেন, মাঠে সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনীও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।


“সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টিন কার্যকর করতে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করবো। প্রয়োজনে প্রথমে ওয়ার্নিং দেবো।তাতে কাজ না হলে আমরা বলবো, আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। এরপরও কাজ না জরিমানাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা আছে।”

তিনি আরও বলেছেন, “বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে আমরা ধরে কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখতে পারি। স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা রাস্তায় ঘোরাফেরা করলে আমরা তাদের ধরে তাদের বাবামা বা অভিভাবককে ডেকে হস্তান্তর করতে পারি। মুলকথা হচ্ছে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা আমরা নেবো। তবে কাউকে হিউমিলেট না করে বা কারও প্রতি অন্য কোনো আচরণ না করে যধাযথভাবে দায়িত্বটা পালন করবো।”

করোনাভাইরাসের পরীক্ষা সম্প্রসারণ করা হলো

এতদিন একটি জায়গায় আইইডিসিআর এর হাতে থাকার বিষয় নিয়েও নানা আলোচনা ছিল।

এক জায়গায় দেড়শো থেকে দু’শো জনের পরীক্ষা করা হতো। এখন দিনে অন্তত ১০০০জনের পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, পরীক্ষা বেশি না হওয়ায় কমিউনিটি সংক্রমণের সঠিক চিত্র পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের পাশাপাশি সরকারের কর্মকর্তাদেরও অনেকে ধারণা করেন যে, আগামী দুই সপ্তাহে বাংলাদেশ পিকটাইম এবং সেজন্য পরীক্ষা সম্প্রসারণ প্রয়োজন ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, সঠিক চিত্র না থাকায় এখনও পরিস্থিতি সম্পর্কে মূল্যায়নও করা যায়নি। সেজন্য এখন উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দিনে অন্তত এক হাজার পরীক্ষা করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তবে কিছুটা বিলম্বে এই পদক্ষেপ নেয়া হলো বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মুনশি বলছিলেন,”সত্যিকার অর্থে আমাদের কাছে যে চিত্রটা আছে, সেটা খন্ডিত চিত্র। কারণ সরাসরি রোগী থেকে নমুনা নিয়ে বা অসুস্থ রোগীরা চিকিৎসক দেখিয়ে পরীক্ষা করিয়েছেন। এমনটা হয়নি। আমরা টেলিফোনের মাধ্যমে নিজেরা চয়েস করে যে উনি হতে পারেন, সেই ভিত্তিতে আমরা কিছু পরীক্ষা করেছি। এই দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, এখন সরকার একদিকে সংক্রমণের সঠিক চিত্র বুঝতে চাইছে, অন্যদিকে কমিউনিটি সংক্রমণ যাতে না বাড়ে সেটাকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

“আমাদের প্রথম কথা হলো, পরীক্ষা করাটা খুব জরুরি। আর লকডাউন আরও জোরদার করা হলো কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত হতে চান, যাতে আমাদের কমিউনিটি সংক্রমণটা আরও বেশি না হয়।দেখা যাচ্ছে, অনেকে বেশি সংখ্যক লোক রাস্তায় বা বিভিন্ন জায়গায় বেরিয়ে যাচ্ছে। তাতে কমিউনিটি সংমণ বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। সেজন্য এই পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে।”

এসব পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দেন স্বাস্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, তারা এখন সঠিক সময়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও।ডাউনলোডকরুন : http://bit.ly/2FQWuTP

আরও পড়ুন

উধাও সামাজিক দূরত্ব, ভাড়াও দ্বিগুণ

Shamim Reza

বেশি ভাড়া-যাত্রী নেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল : কাদের

Shamim Reza

এমপি মোস্তাফিজ পরিবারের ১১ সদস্যসহ করোনা আক্রান্ত

Shamim Reza

বাংলাদেশে করোনা রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ও মৃত ৮০০ ছাড়াল

mdhmajor

সুস্থ হয়েছেন আরও ৬৪৩ জন করোনা রোগী, মোট ১২,৮০৪

mdhmajor

সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত গণস্বাস্থ্যের কিট উদ্ভাবক দলের ড. ফিরোজ

azad