Views: 188

Coronavirus (করোনাভাইরাস) আন্তর্জাতিক

করোনা শনাক্ত হলেও স্পেনে বৃদ্ধদের ফেলে রেখে যাচ্ছেন কর্মীরা


জুমবাংলা ডেস্ক: করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যার হিসেবে চীনকে ছাড়িয়েছে স্পেন। মোট মৃত্যুর হিসেবে এখন পর্যন্ত বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইউরোপের এই দেশটিতে। খবর বিবিসি বাংলার।

গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে মারা গেছে ৭৩৮ জন। এ নিয়ে স্পেনে কোভিড-১৯ রোগে মোট মৃতের সংখ্যা ৩,৬৪৭।

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত চীনে তিন হাজার ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ইতালিতে মারা গেছে সাত হাজার ৫০৩ জন।

স্পেনে সংক্রমণের হার বেড়ছে পাঁচগুণ এবং বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার মানুষকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে রাজধানী মাদ্রিদে, তবে উত্তর-পূর্বের কাতালোনিয়া অঞ্চলে দ্রুতবেগে বাড়ছে সংক্রমণের হার।

দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী কারমেন কালভো করোনভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকার।

আরো দুই সপ্তাহের জন্য বাড়িয়ে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত স্পেনে জরুরি অবস্থা বাড়ানো হবে কি-না, তা নির্ধারণ করতে ভোট দেবেন দেশটির সংসদ সদস্যরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি কেনাকাটা বা ওষুধ কেনা এবং কাজের জন্য ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে – এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২০ হাজারের বেশি মানুষের, আর এখন পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ আরোগ্য লাভ করেছে।

এই ভাইরাসকে ‘মানবতার জন্য হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ।

বিশ্বের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্যে দুইশো কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল তৈরির আহ্বান জানিয়ে বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেন, “বিশ্বের সব দেশের একতাবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেয়া খবুই জরুরি। দেশগুলোর বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম এই সঙ্কট মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে না।”

স্পেনের সর্বশেষ পরিস্থিতি কী?

বুধবার পর্যন্ত স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় দেশে মারা গেছেন ৭৩৮ জন, আর করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে সাত হাজার ৯৭৩ জন।

একদিনে স্পেনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর সংখ্যা এটিই। দেশটিতে এখন করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬১০ জন।


এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি করোনাভাইরাস আক্রান্ত রয়েছে কাতালোনিয়ায়। তবে সবচেয়ে খারাপভাবে আক্রান্ত হয়েছে রাজধানী মাদ্রিদ, সেখানে ১৪ হাজার ৫৯৭ জনের মধ্যে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মাদ্রিদ শহরে মৃতদের সৎকার করার প্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার জানায় যে তারা কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের মৃতদেহ সংগ্রহ করা বন্ধ করে দিয়েছে। শহরের প্রধান আইস রিঙ্ক বা বরফের মধ্যে স্কেটিং করার জায়গা ব্যবহার করা হবে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে।

নাগরিকদের সহায়তা করতে যেসব সেনাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তারা সোমবার কিছু বৃদ্ধ নিবাসে গিয়ে দেখতে পান যে সেখানে প্রবীণদের ফেলে রেখেই চলে গেছে নিবাসের কর্মীরা।

সেখানে কয়েকজনকে মৃত অবস্থায়ও পান তারা।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে নিবাসের কয়েকজন বাসিন্দার মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তাদের ফেলে চলে যান কয়েকটি নিবাসের কর্মীরা।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের কী পরিস্থিতি?

সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত চার লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপ এখন এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র।

ইতালিতে গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৬৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা সাত হাজার ৫০৩ জন। গত চারদিন ধরে ইতালিতে নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা কমছে।

ভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করতে আরোপ করা আইনের বাস্তবায়নে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইতালি। ভাইরাস শনাক্ত হওয়া কোনো ব্যক্তি যদি কোয়ারেন্টিনের নিয়ম ভাঙ্গেন, তাহলে তাকে জরিমানাসহ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড শাস্তির নিয়ম করা হয়েছে।

ফ্রান্সে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে ২৩১ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ৩৩১ জনে। স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান জেরোম সালোমন বলেছেন, লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হচ্ছে এমন মানুষের সংখ্যা ফ্রান্সে ১২ শতাংশ বেড়েছে এবং ‘মহামারি পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে।’

জার্মানিতে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে মারা গেছে ২০৬ জন।

যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে কোভিড-১৯ এ, মারা গেছে ৪৬৬ জন।

সুইজারল্যান্ডে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৩। আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি মানুষ।

তবে ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতে মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা কমেছে।

ইউরোপিয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, ইতালির মিলান শহরের বাতাসে ২০১৯ সালের একই সপ্তাহের তুলনায় ২১ শতাংশ কম নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে।

মাদ্রিদের নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড মাত্রা কমেছে ৪১ শতাংশ এবং পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে কমেছে ৫১ শতাংশ।


যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও।ডাউনলোডকরুন : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.zoombox.kidschool



আরও পড়ুন

ম্যারাডোনার শেষ ইচ্ছা যা ছিল এবং…

Sabina Sami

স্ত্রীর সম্পত্তির হিসাবে অসঙ্গতি, কাঠগড়ায় ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী

Sabina Sami

২৪ বছর পর ফের অর্থনৈতিক মন্দায় ভারত

Sabina Sami

হোয়াইট হাউসে নিয়োগ পাচ্ছেন ফিলিস্তিনি নারী

Saiful Islam

সৌদিতে উঠে যাচ্ছে কাফালা পদ্ধতি, সুফল পাবেন অভিবাসী কর্মীরা

Saiful Islam

নারীদের ‘জানোয়ারের’ সঙ্গে তুলনা করলেন নেতানিয়াহু

Saiful Islam