কোরাল মাছ ধরা পড়ার খবরটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক অন্যরকম চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মেয়রের মৎস্য বাজারে জড়ো হওয়া মানুষের মুখে মুখে এখন ফারুক মাঝির জালে ধরা পড়া বিশাল সেই মাছটির গল্প। সমুদ্রের নোনা জলে রুপালি ইলিশের খোঁজে জাল ফেলেছিলেন ফারুক, কিন্তু ভাগ্য দেবী প্রসন্ন হয়ে তার জালে উপহার হিসেবে পাঠালেন বিশালাকার এক কোরাল।

বুধবার সকালে কুয়াকাটা মেয়রের বাজারে যখন মাছটি নিয়ে আসা হলো, তখন উৎসুক জনতার ভিড় সামলানোই দায় হয়ে পড়েছিল। প্রায় ২২ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের এই মাছটি দেখে অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। সাগর থেকে তীরে নিয়ে আসার পর মাছটি ভালো দামে বিক্রির আশায় জেলেরা যখন হাঁকডাক শুরু করেন, ঠিক তখনই খান ফিসের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর খান এগিয়ে আসেন। তিনি ১৩০০ টাকা কেজি দরে ২৯ হাজার ৫৩০ টাকায় মাছটি কিনে নেন।
ফারুক মাঝির চেহারায় এখন প্রশান্তির হাসি। তিনি বলছিলেন, মঙ্গলবার ভোররাতে বলেশ্বর নদীর মোহনায় যখন জাল টেনে তুলছিলেন, তখন মাছের ঝাপটানিতেই বুঝতে পেরেছিলেন বিশেষ কিছু ধরা পড়েছে। গভীর সমুদ্রে ইলিশের খোঁজে যাওয়া ফারুকের জন্য এই কোরালটি যেন লটারি জয়ের মতো। সচরাচর এত বড় মাছ সাগরে খুব একটা ধরা পড়ে না, আর পড়লেও তা বাজারে আনা পর্যন্ত টাটকা রাখা বেশ চ্যালেঞ্জের।
বাজারে মাছ কিনতে আসা শাহিন মিয়ার মতো সাধারণ মানুষের জন্য এই দৃশ্য যেমন আনন্দের, তেমনি কিছুটা আফসোসেরও। তিনি বলছিলেন, কোরাল মাছ খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হলেও এর চড়া দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে থেকে যায়। তবে এসব বড় মাছ যদি টুকরো করে কেজি দরে বিক্রি করা হতো, তাহলে হয়তো সাধারণ ক্রেতারাও এর স্বাদ নিতে পারতেন। বড় মাছের স্বাদ আর ছোট মাছের স্বাদের মধ্যে যে তফাৎ, তা রসনাপ্রিয় মানুষ মাত্রই জানেন।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই বিশালাকার মাছটি স্থানীয় বাজারে খুচরা বিক্রির বদলে সরাসরি ঢাকায় পাঠানো হবে। ঢাকার বড় বড় বাজারে বা অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোতে এই সাইজের কোরালের ব্যাপক চাহিদা থাকে। ব্যবসায়ী লিটনের মতে, নিলামের আগেই মাছটি সরাসরি কিনে নেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত এটি গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। বড় মাছের জিংক ও আয়োডিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে।
আরও পড়ুনঃ
ভোলায় আটা-রুটির কারখানায় মিললো প্রায় ৬ হাজার ডিজেল, মালিকদের জরিমানা
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দীর কণ্ঠেও শোনা গেল আশার বাণী। তিনি মনে করেন, সাগরে মাছের প্রজনন মৌসুমে সরকারি বিধিনিষেধগুলো জেলেরা মেনে চলায় এখন মাঝেমধ্যেই এমন বড় আকারের মাছের দেখা মিলছে। যদি জেলেরা টেকসই পদ্ধতিতে মাছ শিকার চালিয়ে যান, তবে বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং জেলেদের অভাব-অনটন দূর হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


