‘কেনে ওরা গেইটত তালা মারিল’, মোরসালিনের মায়ের আর্তনাদ

জুমবাংলা ডেস্ক: মোক বাজান ফোন দিছিল ঘটনার ৩ দিন আগত। মোক কইছে মা মুই বইনের জন্যি সেমাই-চিনি কিনিছু। মুই ঈদত বাড়ি গেইলে বইনের শ্বশুরবাড়িত যাই সেমাই-চিনি দিতে আসিম। তুই চিন্তা করিস না। কথা গুলো বলছিলেন, আর মুর্ছা যাচ্ছিলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাশেম ফুড বেভারেজ কম্পানিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত মোরসালিন ইসলামের মা মোকসেদা খাতুন।

নিহত মোরসালিন ইসলাম (২২) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুকদেবপুর গ্রামের আনিসুর রহমান ও মোকসেদা খাতুনের ছেলে। ১ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে মোরসালিন বড়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একই উপজেলার গরিবের বাজারে বোনের বিয়ে হয়।

বাবা আনিসুর রহমান বিলাপ করছিলেন আর বলছিলেন, ঘটনার আগের দিন মোর মোবাইলত সাড়ে ৪ হাজার টেহা পাঠাইছিল। টেহা পাঠাই মোক ফোন দিক কইছে- বাবা বইনের বিয়ার সময় মুই বইনটারে কিছুই দিবার পারু নাই। তোমার মোবাইলত মুই সাড়ে ৪ হাজার টেহা পাঠাইনু। ওই টেহা দিয়া বইনের জন্যি কাপড় কিনি দিস। এটাই বাজানের সাথত মোর শেষ কথা। তার পরে বেটাটার মারা যাওয়ার খবর পানু।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন বিকালত মোক মোর শালা জুয়েল ফোন করি ঘটনা জানাইল। বেটাটা জীবন বাঁচাবার তনে ৩ তলা ছাদ থাকি লাফ দিছে। রাইত ছেলে খান মইরে গেইল। মোর বুক খান খালি হই গেইল। মোর মতন বহু বাবা-মার বুক খালি হই গেইল। কেনে ওরা গেইটত তালা মারিল। মুই কারখানার মালিকসহ এই ঘটনার জড়িত সকলের শাস্তি চাও।

একই কারখানায় চাকরি করেন নিহত মোরসালিন ইসলামের মামা জুয়েল। তিনি জানান, ঘটনার দিন মোরসালিনের ডিউটি ছিল সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা। আর তার ডিউটি ছিল রাত ১০টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। সে কারণে তিনি বেঁচে গেছেন। কিন্তু মোরসালিনের মৃত্যু হলো।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কম্পানিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই মৃত্যুর তালিকায় নাম রয়েছে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার মোরসালিন ইসলাম এর।


জুমবাংলানিউজ/এসওআর