
বার্ধ্যকজনিত কারণে সাজেদা চৌধুরী প্রায়ই অসুস্থ থাকায় মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পান মোহাম্মদ নাসিম। সেই থেকে তাঁর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়ে আসছিল ১৪ দলের কার্যক্রম। আওয়ামী লীগের এই নেতা গত শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও নাসিমের মৃত্যুর পর ক্ষমতাসীন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে—কে হচ্ছেন ১৪ দলের মুখপাত্র।
আন্দোলনের জোট হিসেবে ২৩ দফার ভিত্তিতে গঠিত হয় ১৪ দল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয় সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার। পরবর্তী সময়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। আন্দোলনের মিত্র থেকে ১৪ দলের শরিকরা সরকারের অংশীদার হয়ে পড়ে। পুরো সময়টাতে শক্ত হাতে জোটের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন মোহাম্মদ নাসিম।
তবে তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের আগে থেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে জোটের শরিক দলগুলোর। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট শরিকদের প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া, মন্ত্রিসভায় না রাখা, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখা—এসব নিয়ে শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মাঠের আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচন ও একসঙ্গে সরকার গঠনের ব্যাপারে অঙ্গীকার ছিল আওয়ামী লীগের। কিন্তু বর্তমানে ‘একলা চলো’ নীতিতে রয়েছে আওয়ামী লীগ। তাই জোটের মুখপাত্র হিসেবে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হবে তাঁর কাঁধে এসেই পড়বে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত শরিকদের অসন্তোষ।
নাম প্রকাশ না করে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শরিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন এমন নেতাকেই মুখপাত্র হিসেবে চূড়ান্ত করবেন জোটের প্রধান এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সিনিয়র কোনো নেতা এই দায়িত্বে আসতে পারেন বলে তাঁরা মনে করেন। সে ক্ষেত্রে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও মতিয়া চৌধুরীর অগ্রাধিকার রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘বিষয়টি এই মুহূর্তে অগ্রাধিকারের মধ্যে পড়ে না। অবস্থা স্বাভাবিক হলে আমাদের দলের পক্ষ থেকে একজনকে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। আর তা চূড়ান্ত করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।’
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া গতকাল বলেন, ‘বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক করবেন। এখানে তাঁর মতামতই প্রধান।’
ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, মোহাম্মদ নাসিম ১৪ দলকে সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখার চেষ্টা করে গেছেন। সবার কাছে তাঁর ছিল গ্রহণযোগ্য অবস্থান। কাজেই তাঁর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কোনো সিনিয়র ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে এ দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারবেন। সূত্রঃ কালের কণ্ঠ
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



