নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোগড়খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে সৌভাগ্যক্রমে গুলিটি তার শরীরে লাগেনি।

গুলির লক্ষ্য হওয়া ওই নেতার নাম হাবিব চৌধুরী। তিনি এনসিপির গাজীপুর মহানগর কমিটির সদস্য। হাবিব চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার ব্রাহ্মণ বাউগা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ফটিক চান ও রুকসানা দম্পতির সন্তান। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার মোগড়খাল (৭১ গলি) এলাকায় বসবাস করছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, হাবিব চৌধুরী তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপনটি দেখে দুজন ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে তারা মোগড়খাল এলাকায় এসে মোটরসাইকেলটি দেখতে আসে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তারা মোটরসাইকেলটি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করে।
একপর্যায়ে একজন মোটরসাইকেলটি ‘টেস্ট ড্রাইভ’-এর কথা বলে চালাতে শুরু করেন। ঠিক তখনই অপর ব্যক্তি হাবিব চৌধুরীর দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। হাবিব চৌধুরী মোটরসাইকেলের পেছনে দৌড় দিলে পালিয়ে যাওয়া দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে আরও একটি গুলি ছোড়ে। তবে দুটি গুলিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে হাবিব চৌধুরী বলেন, মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করে। একজন টেস্ট করার কথা বলে বাইকে ওঠে, আরেকজন হঠাৎ করে আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ভাগ্য ভালো, গুলি লাগেনি। এরপর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আলী নাছের খান। তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। ফাঁদ পেতে জুলাইযোদ্ধা হাবিব চৌধুরীকে গুলি করা হয়েছে। তার শরীরে গুলি লাগলে তিনিও শহিদ হাদির মতো শহিদ হতেন। শহিদ হাদিকে যেভাবে গুলি করা হয়েছিল, একই কায়দায় হাবিব চৌধুরীকেও টার্গেট করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারসহ এর নেপথ্যের নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


