গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

গাজীপুরে বাড়ছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগরীতে কাজের সন্ধানে আসা কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর ব্যস্ততম স্থানগুলোতে কাজের সন্ধানে আসা এসব কর্মহীন মানুষকে বসে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে নগরীর জয়দেবপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন কিছু এলাকা, টঙ্গী রেলস্টেশন, গাজীপুর চৌরাস্তা ও কোনাবাড়ি এলাকায় তাদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। বেশির ভাগই কাজের সন্ধানে আসছেন ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, কুড়িগ্রাম, রংপুরসহ দেশের উত্তরের বিভিন্ন জেলা থেকে। তবে তাদের অনেকেই ভোর থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও অনেক সময় কাক্সিক্ষত কাজের সন্ধান পাচ্ছেন না।

সম্প্রতি নগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৬টার আগে থেকেই শত শত কর্মহীন মানুষ রাস্তার পাশে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বসে আছে কাজের সন্ধানে। নগরবাসী কারও কাজের জন্য লোক দরকার হলে ছুটে আসছেন এই চৌরাস্তা মোড়ে। দরদাম করে পোষালে চাহিদা অনুযায়ী এই ঠিকা শ্রমিকদের নিয়ে যাচ্ছেন কাজ করানোর জন্য। তিন বেলা খাবারের পাশাপাশি দিনপ্রতি চার থেকে পাঁচ শ টাকা মজুরি দিতে হয় এই শ্রমিকদের।

গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া এলাকা থেকে আব্দুল কাদের মিয়া এসেছিলেন জয়দেবপুর রেলস্টেশনে। তার জমিতে কাজ করানোর জন্য দরকার কৃষিশ্রমিক। তিনি জানালেন বিলের জমি থেকে বর্ষার পানি নেমে গেছে। বোরো ধানক্ষেত তৈরি করার জন্য চারজন লোক দরকার। তাই কৃষিশ্রমিক নিতে জয়দেবপুর স্টেশনে এসেছেন। তিন বেলা খাবার দিয়ে জনপ্রতি চার শ টাকা করে হাজিরা দেওয়ার চুক্তিতে তিনি চারজন শ্রমিককে নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ও ড্রেন নির্মাণসহ নানা উন্নয়নকাজ চলমান। এসব কাজেও প্রয়োজন হচ্ছে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মজীবী মানুষ গাজীপুরে আসছেন এবং শ্রমিক হিসেবে এসব উন্নয়ন প্রকল্পে কাজে যোগ দিচ্ছেন। এ ছাড়া বর্ষা শেষে শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও বাড়িঘর নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য মাটি কাটা, ইট-বালু-সিমেন্ট বহন এবং নির্মাণশ্রমিক হিসেবেও কাজে যোগ দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কর্মহীন এসব মানুষ।

শেরপুর থেকে কাজের সন্ধানে আসা কৃষিশ্রমিক জাবেদ আলী জানান, আশ্বিন-কার্তিক মাসে তাদের জেলায় তেমন কোনো কাজকর্ম থাকে না। যার কারণে তারা পাঁচজন দল বেঁধে কাজের সন্ধানে এসেছেন গাজীপুরে। তিনি বলেন, ‘গাজীপুর শিল্প এলাকা, এখানে কৃষিকাজের তেমন সুবিধা না থাকলেও মাটি কাটা, রাজমিস্ত্রির সহকারী ও ইট-বালু বহনসহ নানা প্রকার পরিশ্রমের কাজ আমরা করতে পারি। তাই অগ্রহায়ণ মাসে ধান কাটার আগে এক-দেড় মাস গাজীপুরে কাজ করে কিছু টাকা উপার্জন করে পরিবারের জন্য নিয়ে যেতে চাই।’

জাবেদ আলী জানালেন সংসারে তার স্ত্রী, বিয়ের উপযুক্ত দুটি মেয়ে ও মাদ্রাসাপড়–য়া একটি ছেলে রয়েছে। তাদের তিন বেলা খাবার ও স্কুলের পড়ার খরচ জোগাতে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এক দিন বিছানায় পড়ে থাকলে মুখে খাবার জোটে না। তাই কাজের সন্ধানে শহরে আসা। অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি ধান কাটা শুরু হলে ফের গ্রামে ফিরে গিয়ে ধান কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজে অংশ নেবেন তিনি।








আপনি আরও যা পড়তে পারেন


সর্বশেষ সংবাদ