ক্রিকেট (Cricket) খেলাধুলা

‘গোলাপি’ যাত্রা রাঙ্গাতে কাল মাঠে নামছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : ইন্দোর সিরিজের প্রথম টেস্ট মোটেই সুখকর হয়নি বাংলাদেশের। দুই ইনিংসেই ব্যাটসম্যানদের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। একমাত্র আবু জায়েদ রাহীর অনবদ্য পেস বোলিং ছাড়া প্রাপ্তির খাতায় অনেকটা শূন্য সে ম্যাচ।

ইন্দোরের সেই দুঃসহ স্মৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় দিয়ে ‘গোলাপি’ বলের যাত্রা করতে চায় টাইগাররা।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) কোলকাতার ইডেনে ফ্লাড লাইটের আলোয় নতুন যাত্রা শুরু করবে মুমিনুল-কোহলিরা। ঐতিহাসিক এ ম্যাচে নিজেদের রাঙ্গাতে চায় উভয় দল। জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না দুই দলই।

ইন্দোরের পিচ থেকে ইডেনের পিচের অনেকটা অমিল রয়েছে। এখানে সুইং এবং বাউন্স সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হবে ব্যাটসম্যানদের। শীতের কারণে স্পিনাররা প্রথম দিকে সুবিধা করতে না পারলেও, ধীরে ধীরে তা নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে তা খুব বেশি নয়। পেসাররাই এখানে মূল ভরসা।

প্রথম টেস্টে দুই পেসার আবু জায়েদ রাহী ও এবাদত হোসেনকে ভারতীয় বোলাররা কিছুটা সমীহ করলেও, দুই স্পিনার মেহদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামকে পাত্তাই দেয়নি মায়াঙ্কা আগারওয়ালরা।

সে ম্যাচে দু’জন মিলে ৫৫ ওভার বল করেছেন। যেখানে রান দিয়েছেন ওয়ানডের ন্যায়। কিন্তু উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১টি। মিরাজের ইকোনমি রেট ছিল ৪.৬২ আর তাইজুলের ৪.২৮ করে। তাদের বলে বেশ স্বাচ্ছন্দভাবেই খেলেছিলেন আগারওয়াল, রাহানেরা।

অথচ ভারতের দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবিন্দ্র জাদেজা ঠিকই সমীহ আদায় করেছিলেন। দুই ইনিংসে নিয়েছেন ৫টি উইকেট, সবকয়টিই অশ্বিনের ঝুলিতে। উইকেট না পেলেও দুই ইনিংসে রান আটকে রেখে সঙ্গী বোলারকে চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন জাদেজা।

কিন্তু বাংলাদেশের স্পিনাররা সেটিও করতে পারেননি। দিনে হওয়া ইন্দোরের ম্যাচেই যেখানে বড্ড বিবর্ণ ছিলো স্পিনাররা, সেখানে দিবারাত্রির ইডেন টেস্টে তাদের নিয়ে আশা করাটা বেশ কঠিনই বটে। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরিও। তাই স্পিনারদের কাছ থেকে তার চাওয়াটা খুব বেশি নয়।

যেহেতু সূর্যাস্তের পর থাকবে শিশিরের দৌরাত্ম্য, তাই স্পিনারদের চেয়ে পেসারের ওপরেই বেশি ভরসা করতে চান ভেট্টরি। আর এক্ষেত্রে রান আটকে রেখে পেসারদের সাহায্য করাই হবে স্পিনারদের মূল কাজ, এমনটাই মানছেন টাইগাদের স্পিন কোচ।

এদিকে, ইন্দোর টেস্টে পেসার রাহী উজ্জ্বল থাকতে পারলেও, প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন আরেক পেসার এবাদাত হোসেন। যেখানে ভারতীয় পেসারদের বোলিং তাণ্ডকে মুশুফিকদের মাঠ ছাড়ার প্রতিযোগীতা ছিল, সেখানে টাইগারদের পেস বোলিংয়ে বেশ হেলেদুলে খেলেছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।

ফলে, এ ম্যাচে আসতে পারে পরিবর্তন। এবাদাতের জায়গায় নামানো হতে পারে কাটার মুস্তাফিজকে। এছাড়া এদিন খেলতে পারেন সৌম্য সরকারও।

এদিকে, চলতি ভারত সফরে অধিনায়ক জগতে পা রেখেছেন মুমিনুল হক। প্রথম টেস্টে খুব একটা নামের সুবিচার করতে পারেননি এ তরুণ টেস্ট ব্যাটসম্যান। তবে তার প্রতি ভরসা রাখতে চান টিম ম্যানেজমেন্ট।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ম্যাচটিও তার হাত ধরেই যাত্রা করতে চলেছে। তাইতো, এ ম্যাচে জয় দিয়ে নিজের সামর্থের আরেকটা দৃষ্টান্ত দেখিয়ে দিতে চান এ ব্যাটসম্যান।



জুমবাংলানিউজ/এসআর




আপনি আরও যা পড়তে পারেন