চট্টগ্রামে আক্রান্তের চেয়ে সুস্থতার সংখ্যা বেশি

প্রতীকী ছবি

জুমবাংলা ডেস্ক: চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগির চেয়ে সুস্থ্যতার সংখ্যা বেশি। এ সময়ে ১১০ জন সুস্থতার ছাড়পত্র গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, নতুন করে ১০২ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ে। সংক্রমণের হার ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এদিন করোনায় ২ রোগীর মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রিপোর্টে বলা হয়, নগরীর সাতটি ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের ৬৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নতুন শনাক্ত ১০২ বাহকের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৮৭ জন ও নয় উপজেলার ১৫ জন। এর মধ্যে বাঁশখালীতে ৩ জন, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও রাউজানে ২ জন করে এবং রাঙ্গুনিয়া, সীতাকু-, মিরসরাই ও পটিয়ায় ১ জন করে রয়েছেন। জেলায় করোনাভাইরাসে মোট শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা এখন ৫১ হাজার ৬০১ জন। এতে শহরের বাসিন্দা ৪১ হাজার ২৯২ ও গ্রামের ১০ হাজার ৩০৯ জন।

করোনায় গতকাল শহরের একজন ও গ্রামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন ৫৭৫ জন। এতে শহরের ৪২৫ জন ও গ্রামের ১৫৯ জন। সুস্থ্যতার ছাড়পত্র পেয়েছেন নতুন ১১০ জন। ফলে মোট আরোগ্যলাভকারীর সংখ্যা বেড়ে ৩৭ হাজার ৬০৪ জনে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৫ হাজার ২৭৮ জন এবং হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসায় সুস্থ হন ৩২ হাজার ৩২৬ জন। হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে গতকাল যুক্ত হন ২৮ জন ও ছাড়পত্র নেন ৪৪ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১ হাজার ৪৯৮ জন।

উল্লেখ্য, গতকালের ২ জনসহ চট্টগ্রামে চলতি মে মাসের প্রথম ১২ দিনে ৫১ করোনা রোগির মৃত্যু হলো। এ সময়ে সর্বনি¤œ মৃত্যু ছিল ১০ মে। এদিন নতুন ১০৬ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। সংক্রমণের হার ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ৮ জনের মৃত্যু হয় ৮ মে। এদিনও ১০৬ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং হার ছিল ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে এ মাসে কোনো মৃত্যুশূন্য দিন ছিল না।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি আজ বাসস’কে বলেন, ‘সংক্রমণ ও আরোগ্যলাভের এ ধারা স্বস্তিদায়ক। গতকাল ২ রোগী মারা যান, যা দুঃখজনক। এছাড়া, ১১০ জনের সুস্থ্যতার বিপরীতে ১০২ জন আক্রান্তের দিকটি ইতিবাচক। ৪৪ জনের ছাড়পত্র গ্রহণের বিপরীতে নতুন ২৮ জন কোয়ারেন্টাইনে যাওয়াও কিছুটা স্বস্তির। এ ধারা ধরে রাখা গেলে সুফল পাওয়া যাবে।’

তবে তিনি বলেন, ‘ঈদ আনন্দে হুঁশ-জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আবারো বড় সংকটের মুখোমুখি হবো আমরা। এ বিষয়টি সর্বস্তরের মানুষকে মাথায় রাখতে হবে। আবশ্যিক উপলক্ষে ঘরের বাইরে গেলেও আমাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে আপনার বেপরোয়া কোনো চলাচলে যেন ঘনিষ্ঠ কোনো স্বজনকে চরম মূল্য দিতে না হয়। ’

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ল্যাবে ২৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় গ্রামের ৩ জনসহ ১৫ জন করোনার জীবাণুবাহক পাওয়া যায়। ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১৫৯টি নমুনার মধ্যে গ্রামের ৪টিসহ ২২টিতে করোনার জীবাণু থাকার প্রমাণ মিলে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৬১ জনের নমুনার মধ্যে গ্রামের ১ জনসহ ১৫ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হন। আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএলে ৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হলে গ্রামের ১টিসহ ২০টির পজিটিভ রেজাল্ট আসে।

বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মধ্যে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করে গ্রামের ২টিসহ ১৯টি, মা ও শিশু হাসপাতালে ২০টি নমুনার মধ্যে গ্রামের ১টিসহ ৬টি এবং মেডিকেল সেন্টারে ১০টি নমুনায় শহরের ২টিতে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। চট্টগ্রামের ৬৫ জনের নমুনা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় গ্রামের ৩টির পজিটিভ ও বাকীগুলোর নেগেটিভ রেজাল্ট আসে।

এদিন, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় ও শেভরনে কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণে বিআইটিআইডি’তে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, সিভাসু’তে ১৩ দশমিক ৮৩, চমেকে ২৪ দশমিক ৫৯, আরটিআরএলে ৪৩ দশমিক ৪৮, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ২৫ শতাংশ, মা ও শিশু হাসপাতালে ৩০, মেডিকেল সেন্টারে ২০ এবং কক্সবাজার মেডিকেলে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ সংক্রমণ হার নির্ণিত হয়। সূত্র: বাসস


জুমবাংলানিউজ/একেএ