চট্টগ্রামে নতুন করে আরও ৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২২

জুমবাংলা ডেস্ক: চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন ২২২ জনের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ হার ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। আরোগ্য লাভ করেন ১৪৪ জন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রিপোর্টে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, নগরীর দশটি ও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ১ হাজার ১৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

নতুন আক্রান্ত ২২২ জনের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ১৩৪ জন ও বারো উপজেলার ৮৮ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ সীতাকু-ে ১৬ জন, ফটিকছড়িতে ১৫ জন, হাটহাজারীতে ১৪ জন, আনোয়ারায় ১০ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৯ জন, মিরসরাইয়ে ৮ জন, রাউজানে ৭ জন, বাঁশখালীতে ৪ জন, লোহাগাড়ায় ২ জন এবং সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও সন্দ্বীপে ১ জন করে রয়েছেন।

জেলায় করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা এখন ৫৫ হাজার ৬৮৮ জন। সংক্রমিতদের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৪৩ হাজার ৯৪২ জন ও গ্রামের ১১ হাজার ৭৪৬ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল চার জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ মাসের প্রথম ১৭ দিনে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩২ জনে পৌঁছেছে। এটা ছিল এ মাসে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু। ৩ জন করে মারা গেছেন পাঁচদিন। মৃত্যুশূন্য ছিল তিনদিন। করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ হার রেকর্ড হয় ১৩ জুন, ২৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এদিন চলতি মাসের সর্বোচ্চ ২২৫ জনের নমুনায় জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। একদিনে সবচেয়ে কম আক্রান্ত শনাক্ত হয় ৬ জুন, ৬০ জন। সংক্রমণ হার ছিল ১৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। মাসের সর্বনি¤œ ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ সংক্রমণ হার রেকর্ড হয় গত ১২ জুন।

গতকাল করোনায় শহরের ৩ জন ও গ্রামের একজনের মৃত্যু হয়। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন ৬৫৪ জন হয়েছে। এতে শহরের বাসিন্দা ৪৫৮ জন ও গ্রামের ১৯৬ জন। সুস্থতার ছাড়পত্র পেয়েছেন নতুন ১৪৪ জন। এতে মোট আরোগ্য লাভকারীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৫৮২ জনে উন্নীত হলো। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬ হাজার ২০২ জন এবং ঘরে থেকে চিকিৎসায় সুস্থ হন ৪১ হাজার ৩৮০ জন। হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে নতুন যুক্ত হন ৩৮ জন, ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩৫ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১ হাজার ১৫৮ জন।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, গতকাল সবচেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে। এখানে ৪৭০ জনের নমুনা পরীক্ষায় শহরের ২৯ জন ও গ্রামের ৩১ জন জীবাণুবাহক পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ১৭৪ টি নমুনার মধ্যে শহরের ১৭ ও গ্রামের ১৩ টিতে জীবাণু থাকার প্রমাণ মেলে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ১৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে শহরের ২৩ ও গ্রামের ২৯ জন ভাইরাসবাহক বলে চিহ্নিত হন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৩৮ জনের নমুনার মধ্যে শহরের ১৪ জন আক্রান্ত ধরা পড়ে। নগরীর একমাত্র বিশেষায়িত কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএল-এ ৪৪ টি নমুনায় গ্রামের ৪ টিসহ ২২ টির রেজাল্ট পজিটিভ আসে।

বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মধ্যে শেভরনে ১৪৬ টি নমুনা পরীক্ষা করে গ্রামের একটিসহ ১১ টি, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৫৬ টি নমুনার মধ্যে শহরের ৫ ও গ্রামের ৩ টি, মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ২৪ টি নমুনা পরীক্ষায় শহরের ৪ ও গ্রামের ৩ টিতে, মেডিকেল সেন্টারে ১৪ টি নমুনায় শহরের ৪ টি এবং এপিক হেলথ কেয়ারে ২৪ টি নমুনার মধ্যে গ্রামের ২ টিসহ ১২ টিতে ভাইরাসের অস্তিত্ব চিহ্নিত হয়।

এদিন চট্টগ্রামের ১৯ জনের নমুনা কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় দু’জনের পজিটিভ এবং বাকীগুলোর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণে বিআইটিআইডি’তে ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ, সিভাসু’তে ১৭ দশমিক ২৪, চবিতে ৩৬ দশমিক ৬২, চমেকে ৩৬ দশমিক ৮৪, আরটিআরএলে ৫০ শতাংশ, শেভরনে ৭ দশমিক ৫৩, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ১৪ দশমিক ২৮, মা ও শিশু হাসপাতালে ২৯ দশমিক ১৬, মেডিকেল সেন্টারে ২৮ দশমিক ৫৭, এপিক হেলথ কেয়ারে ৫০ এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ সংক্রমণ হার রেকর্ড হয়।


জুমবাংলানিউজ/এইচএম