in

চলমান কঠোর লকডাউন বাড়ানোর বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুমবাংলা ডেস্ক: মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত ১৪ দিনের চলমান কঠোর লকডাউন আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকছে বলে জানিয়ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে করোনা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

লকডাউন বাড়ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লকডাউন বাড়ছে কিনা সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন থাকবে। এই সংক্রমণ অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কমবে। আমরা এ জন্য এই টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করব। আমাদের কাছে যে টিকা আসছে সেই টিকা দিয়েই আমরা এই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। পরবর্তীতে যে টিকা আসবে সেগুলোও আমরা পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করব।

এসময় করোনাভাইরাসের টিকা কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুধু নিরাপত্তা বাহিনী ও আমাদের সরকারি কর্মকর্তাদেরই টিকার আওতায় নিয়ে আসব না। আমাদের জনপ্রতিনিধি, আমাদের ধর্মীয় নেতারা, আমাদের সমাজের নেতারা, ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, ওয়ার্ডের নেতারা সবাইকে এই টিকাদান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে। নাহলে আমরা এই ভাইরাস থেকে পরিত্রাণ পাবো না এটাই এই সভায় আলোচনায় বেরিয়ে এসেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্রন্টলাইনে যারা কাজ করছেন তাদের টিকা দানে সব সময় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এখানে সেনাবাহিনী, নেভি, এয়ারফোর্স, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ, আনসারসহ সব বাহিনীর সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া তাদের পরিবারের সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে। ফ্রন্টলাইনে যারা কাজ করেন তারা ১৮ বছরের উপরে যারা তাদের সবাইকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার যে এরিয়া সেই এরিয়াতে সংশ্লিষ্ট বাহিনী তদারকি করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পুলিশ প্রধান, বিজিবি প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুর দেড়টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ঈদের পর থেকে প্রায় এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এখনো আমাদের স্টকে এক কোটির উপরে ভ্যাকসিন আছে। দেশে করোনার মৃত্যু ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মাস্ক পরার কোনো বিকল্প নেই। এটা প্রয়োজনে সবাইকে বাধ্য করতে হবে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমার একটি প্রস্তাব হলো- কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন বা ভ্যাকসিন প্রদানের ওপর ডিপেন্ড করবে আরোপিত বিধিনিষেধ কার্যক্রম বর্ধিত করবেন কিনা।

তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে যেখানে ভ্যাকসিনেশন ৭০ বা ৮০ শতাংশ দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

সম্প্রতি ইউরো কাপের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি ইউরো কাপে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে বসে গ্যালারিতে খেলা দেখেছে। সেখানে কিন্তু কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ তাদের ওখানে ৭০ বা ৮০ শতাংশ ভ্যাকসিনেশন দেওয়া হয়েছে। এখানে ভ্যাকসিন যদি ৮০ শতাংশ দেওয়া যায় এবং মাস্ক যদি সবাই পরে তাহলে আমরা মোটামুটি একটা ভালো অবস্থা তৈরি হবে।

পলক বলেন, এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বলতে হবে যে, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে উনারা প্রতিদিন দুই লাখ ভ্যাকসিনেশনকে ১০ লাখে উন্নীত করতে পারবেন কিনা? এটার ওপর ডিপেন্ড করবে আপনি বিধিনিষেধ তুলবেন কিনা?

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা যে পরিমাণ কড়াকড়ি করেছি এর চাইতে আর বেশি কড়াকড়ি করা সম্ভব না। আমরা কতজনকে গ্রেপ্তার করে জেলখানায় রাখব? এমনিতেই জেলখানা পরিপূর্ণ। আর সেখানে যদি করোনা ছড়িয়ে যায় তাহলে কী হবে?

তিনি বলেন, আমরা একটা বিষয় নিয়ে খুব আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম যে ভারত কীভাবে কন্ট্রোল করবে? কিন্তু ভারত ভ্যাকসিন যেভাবে দিয়েছে সব কিন্তু কন্ট্রোল হয়ে গেছে। তাদের দেশে সংক্রমণ কিন্তু ২ শতাংশে নেমে এসেছে। সেই জায়গা থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের ভ্যাকসিন কার্যক্রমকে আরও কীভাবে গতিশীল করবেন সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। যে যাই বলুক এই লকডাউন কোনো সমাধান নয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১ থেকে ৭ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে তা বাড়িয়ে ১৪ জুলাই করা হয়। ঈদুল আজহার কারণে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। পরে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ‘কঠোরতম বিধিনিষেধ’ জারি করে সরকার।

অনলাইনে খুব সহজে টাকা ইনকাম করার উপায়