চট্টগ্রামে কুরবানির চামড়া বিক্রিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৫ উপজেলায় কুরবানির পশুর ২০ শতাংশ চামড়াও বিক্রি হয়নি। এমনকি বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা চামড়ারও ক্রেতা পাওয়া যায়নি।

চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং আড়তদারদের অনীহার কারণে ক্ষুব্ধ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সড়কে চামড়া ফেলে গেছেন। চামড়া ফেলে দিয়েছেন নদীতে। কেউ কেউ পরিবেশের দূষণ রোধে মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।
চট্টগ্রামের আড়তগুলো অন্যান্য বছর গড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখের মতো চামড়া সংগ্রহ করত; কিন্তু এ বছর নামমাত্র চামড়া সংগ্রহ করেছে। দাম না পাওয়ায় বা একেকটি চামড়ার দাম ৫০ টাকা বা তারও কম চাওয়ার কারণে রাগে-ক্ষোভে অনেকে চামড়া বিক্রি না করে ফেলে গিয়েছেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগ নগরীর ষোলশহর দুই নাম্বার গেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ফেলে যাওয়া এসব চামড়া কুড়িয়ে নিয়ে ট্রাকে করে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঢাকার বাইরে গরু ও মহিষের লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিটি চামড়ায় ১ হাজার টাকারও বেশি; কিন্তু সরকার নির্ধারিত এই দামের ধারে-কাছেও যায়নি আড়তদাররা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ২শ থেকে ৪শ টাকায় কেনা গরুর চামড়া আড়তে বিক্রি করতে গিয়ে মিলছে মাত্র ১শ থেকে ৩শ টাকা। একপর্যায়ে এই দামেও চামড়া কেনা বন্ধ করে দেন আড়তদাররা।
শুক্রবার সকালে বিবিরহাট ও আতুরার ডিপো এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে গরুর শত শত চামড়া। এসব চামড়া থেকে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক চামড়া ময়লা জমে নষ্ট হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির সামাল দিতে সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাক এসব চামড়া অপসারণ করেছে।
নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় ছোট-বড় ২২৫টি আড়তে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করা হয়। নগরী ও বিশেষ করে উপজেলা থেকে মৌসুমি সংগ্রহকারীরা কুরবানির চামড়া সংগ্রহ করে সেখানে নিয়ে আসেন। আড়তদারের প্রতিনিধিরাও নগরীর বিভিন্ন স্পটে গিয়ে মৌসুমি সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেন।
সাতকানিয়া উপজেলা থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, আড়তদারেরা সিন্ডিকেট করে একেকটি চামড়ার দাম ৫০ থেকে ২শ টাকার বেশি দিতে আগ্রহী ছিলেন না। সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা পর্যন্ত দর উঠেছিল বড় গরুর চামড়া। অথচ আমি একেকটি বড় গরুর চামড়া কিনেছি ২শ টাকা থেকে ৪শ টাকায়। দাম না পেয়ে আমার মতো অনেকে চামড়া বিক্রি না করে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে গেছেন।
আতুড়ার ডিপো এলাকায় চামড়া ডাম্পিংয়ে নিয়োজিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মুনির জানান, অন্যান্য বছর কুরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে বেগ পেতে হতো। এ বছর কুরবানির বর্জ্যর পাশাপাশি পশুর চামড়া অপসারণ করতে বেগ পেতে হয়েছে। কারণ চামড়াতে লবণ না দিলে সহজেই পচন শুরু হয়। শুক্রবার সকালে বর্জ্যের সঙ্গে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পচন শুরু হওয়া বিপুল পরিমাণ চামড়া ডাম্পিং করছেন তারা। তবে বেশ কয়েকটি ডাম্প ট্রাক ও ছোট আকারের ময়লাবাহী ভ্যানভর্তি পচা চামড়া ফেলে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন দাবি করেছেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৪ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। বিশেষ করে নগরীতে দেড় লাখ এবং উপজেলা পর্যায়ে আরও আড়াই লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। যেসব মৌসুমি ব্যবসায়ী ব্যবসা না বুঝে সরকার নির্ধারিত দাম না বুঝে চামড়া কিনেছেন এবং বেশি দামে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে দাম ধরে বসে ছিলেন তাদের কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে। অনেকে চামড়া সংরক্ষণ করতে না জানায় চামড়া নষ্ট হয়েছে।
বোয়ালখালীর মিলিটারির পুল এলাকায় ক্ষুব্ধ কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ীকে দেখা গেছে ট্রাকে করে চামড়া এনে খালে ফেলে দিতে। ৫০ টাকা দামেও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে তারা ক্ষোভে খালের মধ্যে চামড়া ভাসিয়ে দেন বলে ওই ব্যবসায়ী জানান।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



