
করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন কেমন হতে পারে, সে বিষয়ক আর একটি প্রতিবেদন গত সপ্তাহে প্রকাশ করে ইউএসডিএ। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বৈরী আবহাওয়া ও নানা সংকটের কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শস্যÑ চাল, গম ও ভুট্টার উৎপাদন কমছে। কিন্তু ঠিক তার উল্টো চিত্র বাংলাদেশে।
অনুকূল আবহাওয়া ও উপকরণ সহজলভ্য থাকায় এবার দেশে ওই তিন খাদ্যশস্যের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বাড়বে, প্রায় ১০ লাখ টন। আমন, আউশ ও বোরো তিন মৌসুমেই চালের উৎপাদন ভালো হওয়ায় চলতি বছর শেষে ৪ লাখ টনের বেশি উৎপাদন বাড়বে। এতে ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। গত এক বছরে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৩ শতাংশ। আর স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের তুলনায় সেটা প্রায় তিনগুণ। গত বছর দেশে চাল উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৫৬ লাখ টন।
ইউএসডিএর প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্বে ৫০ কোটি ২০ লাখ টন ছাড়াতে পারে চালের উৎপাদন, যা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেশি। বরাবরের মতো চীন সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন করবে, ১৪ কোটি ৯০ লাখ টন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এবার চাল উৎপাদন দাঁড়াবে ১১ কোটি ৮০ লাখ টন। এর পরই ৩ কোটি ৬০ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। আর দীর্ঘদিন ধরেই তিন নম্বর স্থানটি দখলে রাখা ইন্দোনেশিয়া চতুর্থ অবস্থানে নেমে যাবে। দেশটিতে চালের উৎপাদন হবে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টন।
এবার চাল উৎপাদনের শীর্ষ ১২টি দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পরই থাকছে ভিয়েতনাম (২ কোটি ৭৫ লাখ টন), থাইল্যান্ড (২ কোটি ৪ লাখ টন), মিয়ানমার (১ কোটি ৩১ লাখ টন), ফিলিপাইন (১ কোটি ১০ লাখ টন), জাপান (৭৬ লাখ ৫০ হাজার টন), পাকিস্তান (৭৫ লাখ টন), ব্রাজিল (৬৯ লাখ) ও কম্বোডিয়া (প্রায় ৫৮ লাখ টন)। ইউএসডিএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে চালের উৎপাদন দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ কমেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল উৎপাদনকারী দেশ চীনের উৎপাদন ১ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে। বিশ্বের অন্যতম চাল রপ্তানিকারক দেশ থাইল্যান্ডে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, মিয়ানমারে প্রায় ২ শতাংশ উৎপাদন কমেছে। ভারত ও ভিয়েতনামে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি চালের উৎপাদন বেড়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে, প্রায় ৩ শতাংশ।
এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দেশের কৃষকরাই এ অর্জনের প্রধান দাবিদার। এর সঙ্গে এ খাতে নিয়োজিত সম্প্রসারণকর্মী, বিজ্ঞানী, গবেষক ও বেসরকারি খাতের অবদান রয়েছে। তাদের সহায়তা করার জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা শুধু প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপকরণ, আর্থিক ও নীতিসহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সরকারপ্রধান কৃষি ও কৃষকদের জন্য অন্তঃপ্রাণ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের চাল উৎপাদনে বৈশ্বিক এ সফলতা এসেছে।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



