বেরোবি প্রতিনিধি : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের তফসিল এপর্যন্ত পরপর পাঁচবার স্থগিত করা হয়েছে। ব্রাকসু নির্বাচন না দেওয়ায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী কে ‘জুতার মালা দেওয়া হবে’ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেরোবি শাখা শিবির নেতা শিবলী সাদিক।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে শিবির কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী প্রকাশনা উৎসবের প্রস্তুতিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে শিবিরের ব্যানারে প্রোগ্রাম ও আলোকসজ্জা বন্ধের অভিযানে গেলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে শিবির নেতা শিবলী সাদিক ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, “যেহেতু ভিসি সিন্ডিকেট মানে নাই সেহেতু আমরাও মানি না।এখন আমাদের কাছে ওই সিন্ডিকেটের কোন মূল্য নেই। ভিসি একজন বেহায়া লোক, তার ভিসি হওয়ার যোগ্যতাই নেই। তাকে ক্যাম্পাসে জুতার মালা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল এই ক্যাম্পাসে ছাত্রদল শোডাউন দেয়, স্লোগান দিয়ে মিছিল করে, নিজেদের ব্যানারে প্রোগ্রাম করে সেখানে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও উপাচার্য অতিথি হয়ে বক্তব্য দেয়। এখন থেকে বেরোবি ছাত্রশিবির সকল প্রকার সাংগঠনিক, রাজনৈতিক ও দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ভিসি যেহেতু সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মানেননি, আমরাও মানব না।”
ঐ সময় শিবির নেতা বায়জিদ বলেন, “উনি (উপাচার্য) ক্যাম্পাসে ব্রাকসু নির্বাচনের নামে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সময় নষ্ট করেছেন।”
এবিষয়ে বেরোবি শাখা শিবিরের সভাপতি সুমন সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্রাকসু নির্বাচন না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব হয়েছে।এই কারণে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ক্ষুব্ধ। তারই রেস ধরে হয়তো শিবলী সাদিক রাগের মাথায় এমন কথা বলে ফেলেছেন। তবে তার এটি বলা ঠিক হয়নি।শিক্ষকের প্রতি তার আরো নমনীয় হওয়া উচিত ছিল।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রক্টর এখনো আগের পদে বহাল আছেন। তাদের সদিচ্ছা থাকলেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতো।ব্রাকসু নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। আগামীতে এর সমাধান না হলে হয়তো শিক্ষার্থীরা আরো ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন”।
আরও পড়ুনঃ সাত জেলার মোটরসাইকেলচালকদের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ–সুবিধা চালু
তিনি আরও বলেন, “যদি ব্রাকসু নির্বাচন হতো, শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ফিরে পেতো। তাহলে আমরা ক্যাম্পাসে জোর করে শিবিরের প্রোগ্রাম করতাম না।আগে যারা ক্যাম্পাসে প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন এখনো তারা আছেন। কিন্তু এই প্রশাসন এবং ব্রাকসুর নির্বাচন কমিশন ব্রাকসুর নামে শিক্ষার্থীদের সাথে বারবার প্রহসন করেছেন। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের কথা রাখতে ভিন্ন ভিন্ন কারণ দেখিয়ে পরপর পাঁচবার ব্রাকসুর তফসিল স্থগিত করেছেন। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিচ্ছেন না। প্রশাসন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং উপাচার্য ছাত্রদলের রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়বাদী ফোরামের ব্যানারে নিজেরাই প্রোগ্রাম করেছেন। সেখানে উপাচার্য বিশেষ অতিথি এবং প্রক্টর সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন দ্বিচারিতা মনোভাব পোষণ করতেছেন। তাই এখন আমরাও আমাদের দলের ব্যানারে প্রোগ্রাম করছি।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


