জঙ্গি মামুনের তথ্যে বন্দরে অভিযান

জুমবাংলা ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পর বন্দরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজমের সদস্যরা। পরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার জঙ্গি মামুনের দেয়া তথ্যে রোববার রাতেই তারা রওনা হন বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায়।

জানা গেছে, আড়াইহাজারের জঙ্গি মামুনের দেয়া তথ্যে গ্রেফতার করা হয় নাইম ওরফে মেজর ওসামা নামের নব্য জেএমবির এক বোমা প্রশিক্ষককে। বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় রোববার দিবাগত রাত সোয়া ২টায় শুরু হয় অভিযান।

কিন্তু বোমা পাওয়া না গেলেও উদ্ধার করা হয় বিপুল জিহাদী বই, শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রাভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বোমা তৈরির সামগ্রী, রিমোট কন্ট্রোল।

এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সিটিটিসি ইউনিটের আসাদুজ্জামান অভিযান শেষে জানান, রোববার সন্ধ্যার দিকে কেরানীগঞ্জ থেকে মেজর ওসামা ওরফে নাইমকে গ্রেফতার করে। নাইম জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে বোমা বানায় এবং বোমা তৈরির প্রশিক্ষকও বটে। সে এখানে পার্শ্ববর্তী মসজিদে ইমামতি করত। যে বাসা থেকে বোমার তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি সেই বাসায় সে সপরিবারে থাকত। কয়েকদিন পূর্বে সে তার পরিবারকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং সে একা একা বোমা তৈরির সরঞ্জাম নিয়ে বোমা তৈরি করছিল।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, মামুন নোয়াগাঁও এলাকার একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ইমামতির আড়ালে তিনি বোমা তৈরির একটি কারখানা গড়ে তুলেছেন।

সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, জঙ্গি আস্তানাটি নব্য জেএমবির। গ্রেফতার হওয়া মামুন নব্য জেএমবির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জঙ্গি আস্তানায় কী পরিমাণ এক্সপ্লোসিভ আছে, তা জেনে অভিযানের প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে গত ১৭ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে রোববার বিকেলে আড়াইহাজারের মিয়াবাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে বোমাটি আড়াইহাজারের বাড়িতে তৈরি ছিল।


জুমবাংলানিউজ/এসআর