বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, আইসিসিতে ক্রিকেট বোর্ডের পাঠানো চিঠির উত্তর শনিবারও পায়নি। ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার চিঠির উত্তর আগামী সোমবার কিংবা মঙ্গলবার পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা বিসিবি প্রধানের।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপের ম্যাচ ভেনু্য ভারত থেকে সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে। ভারতে নয়, সহ আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে চায় বাংলাদেশ। আইসিসিকে মোট তিনটি চিঠি দিয়েছে বোর্ড।
প্রথম চিঠিতে, গত রবিবার বিসিবি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জানতে চেয়েছিল। সেদিন বিকালেই বিসিবি দ্বিতীয় চিঠিতে জানায়, ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারবে না। ভেনু্য সরানোর অনুরোধ করা হয়। বিসিবির চিঠির জবাব দিয়ে আইসিসি বিসিবির কাছে জানতে চায়, বাংলাদেশ কেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছে? নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিমান্ড কি?
তৃতীয় চিঠিতে বাংলাদেশ নিরাপত্তা নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন, সংশ্লিষ্টসহ হুমকির প্রমাণ খরব, ছবি ও ভিডিও আইসিসিকে পাঠায় বিসিবি। গত বুধবার এই চিঠি পাঠানো হয়। তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও আইসিসি থেকে মেলেনি সাড়া।
এদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার সমাধান খুঁজতে আজ রোববার বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। এনডিটিভি এ খবর নিশ্চিত করেছে। এদিন ভাদোদারায় ভারত ও নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। মাঠে খেলা দেখবেন জয় শাহ। এর ফাঁকেই হবে এই বৈঠক।
এনডিটিভির দাবি, বিসিবির শেষ চিঠি পরিস্থিতিকে পুরোপুরি ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। যেখানে বিসিবি বেশ কিছু বিষয়কে সামনে এনেছে। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা পুরো দেশকেই ছোট করেছে বলে জানানো হয়েছে। একজন ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা দিতে না পারলে পুরো দল কিভাবে নিরাপদ অনুভব করবে সেই প্রশ্নও তোলা হয়।
বিসিসিআই কিংবা আইসিসি এখন পর্যন্ত ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার কোনো চিন্তা করেনি বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। তারা নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। বাংলাদেশের চাহিদা, কোথায় নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস আসতে পারে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা, নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দেওয়া এবং সর্বোপরি বিশ্বকাপ খেলাতে রাজি করানোর বিষয়টিতে জোর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চাইলেই আইসিসি কঠোর হতে পারছে না। পূর্ণ সদস্যভুক্ত দেশ হওয়াতে বাংলাদেশকে বাদ দিতে হলে আইসিসির বোর্ডের অনুমতির প্রয়োজন হবে। শুধু তাই নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ও ভারতের রাজনৈতিক যে তপ্ত সম্পর্ক সেটাও বিবেচনায় আনতে হচ্ছে বোর্ড কর্তাদের। এজন্য সরকারের থেকেও নেওয়া হচ্ছে পরামর্শ।
ফলে সহসাই বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়ার ইসু্যটির সমাধান আসবে তা আন্দাজ করা যাচ্ছে। তবে ভালো খবর, আয়োজক দেশ ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে আইসিসি। যা বাংলাদেশের জন্যও আশার খবর।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ২০ দল নিয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের চার ম্যাচের তিনটিই কলকাতায়। আরেকটি মুম্বাইয়ে। কলকাতায় বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ যথাক্রমে ৭, ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ড। ১৭ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ নেপালের বিপক্ষে ওয়াংখেড়েতে।
গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সুপার এইটে উঠতে পারলে বাংলাদেশের সফর বাড়বে। নয়তো ভারতেই শেষ হবে মিশন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


