জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা

অধিকৃত জম্মু কাশ্মীরের সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার বৈঠক করার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সেই বৈঠকেই সম্ভবত জম্মু কাশ্মীরকে কীভাবে রাজ্যের তকমা ফিরিয়ে দেয়া হবে, তার রূপরেখা তুলে ধরবেন মোদি। এদিকে, মোদি সরকার অধিকৃত কাশ্মীর ভূখণ্ডে ৮ লাখ পুলিশ নিযুক্ত করে অঞ্চলটিকে উন্মুক্ত জেলখানায় পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

দেশের ভিতরে বাইরে নানা রকম চাপের মুখে অবশেষে জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যের তকমা ফিরিয়ে দিতে চাইলেও নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি মোদি সরকার। বিশেষ ক্ষমতার প্রত্যাহার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার পরেও কাশ্মীর নিয়ে সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে এগিয়েছে বিজেপি। এই সিদ্ধান্তের পিছনে যে লক্ষ্যগুলি ছিল, সেগুলিও ধীরে ধীরে পূরণের দিকে এগিয়েছে মোদি সরকার। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে সেখানে বিরোধী মত দমিয়ে রাখা হয়েছে। কাশ্মীরের যে নেতাদের বন্দি করে রাখা হয়েছিল, মুক্তি দেয়া হলেও তারা নজরবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। সূত্রের খবর, জম্মু কাশ্মীরকে কীভাবে রাজ্যের তকমা ফিরিয়ে দেয়া হবে, গত কয়েকমাস ধরে সেই কৌশল ঠিক করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। কাশ্মীরে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে পারলে তা কেন্দ্রীয় সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করছে মোদি সরকার। গোটা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত সরকারের শীর্ষ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রতিশ্রুতি মতো রাজ্যের তকমা ফেরানো হলেও অতীতের মতো কাশ্মীরের জন্য বিশেষ কোনও ক্ষমতার সংস্থান এবার আর থাকছে না।

২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট ৩৭০ ধারা অবলুপ্ত করার পাশাপাশি জম্মু কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছিল মোদি সরকার। জম্মু কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে লাদাখকেও পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই পদক্ষেপের পরেই কাশ্মীরের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লাগাম টানা হয়। মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লার মতো উপত্যকার অনেক নেতাকেই আটক করা হয়। ধীরে ধীরে অবশ্য বিধিনিষেধ শিথিল করে নেতাদেরও মুক্তি দেয়া হয়।

আগামী ২৪ জুনের বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমেই ফের একবার কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কেন্দ্রের সরাসরি আলোচনা শুরু হতে চলেছে। পিডিপি, ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতো উপত্যকার প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি কংগ্রেস, বিজেপি-র প্রতিনিধিদেরও বৈঠকে ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, কীভাবে জম্মু কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো হবে, তার রূপরেখা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাওয়ার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে জম্মু কাশ্মীরকে। কারণ গত বছর যে ডিলিমিটেশন কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তারা রিপোর্ট দেয়ার পরই কাশ্মীরে ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে জম্মু কাশ্মীরকে রাজ্যের তকমা ফেরালেও আপাতত লাদাখ নিয়ে কিছু ভাবছে না কেন্দ্রীয় সরকার।

জম্মু কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার পরিবেশ তৈরি করতে এবং তার রণকৌশল ঠিক করার নেপথ্যে মূল ভূমিকা নিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। উপত্যকার স্বাধীনতাকামী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পরেও কাশ্মীরে স্থানীয় স্তরে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলির মূল দাবিই ছিল রাজ্যের তকমা ফিরিয়ে দেয়া। সেই দাবি পূরণ হওয়ায় দু’ পক্ষে অনেকটাই সন্ধি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের পর কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন হয়নি। কেন্দ্রের শীর্ষ স্তর সূত্রে দাবি করা হয়েছে, যত শীঘ্র সম্ভব বিধানসভা নির্বাচন সেরে ফেলার চেষ্টা করা হবে বলে বৃহস্পতিবারের বৈঠকেই জম্মু কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলিকে আশ্বস্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী। সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শেষ হলেই জম্মু কাশ্মীরে নির্বাচন হওয়ার কথা।

এদিকে, মার্কিন টিভি চ্যানেল এইচবিও’র প্রামাণ্যচিত্রধর্মী সংবাদ কার্যক্রম অ্যাক্সিওসে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রোববার সেটি প্রচারিত হয়েছে। সেখানে ইমরান খান বলেন, মোদি সরকারের শাসনামলে ভারতে মুসলমানসহ সব ধর্মের সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অধিকৃত কাশ্মীরে সেনা নিয়োগ দিয়ে উপত্যকাটিকে উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছে মোদি সরকার; কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব বিষয়টিকে বরাবরই উপক্ষো করে চলেছে। সূত্র : এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।


জুমবাংলানিউজ/ জিজি