in , ,

জামাইদের নিয়ে বসেছে জমজমাট মাছের মেলা

জুমবাংলা ডেস্ক: জয়পুরহাটের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে শুরু হয়েছে প্রাণের নবান্ন উৎসব। কৃষকদের ঘরে উঠেছে নতুন ধান। পিঠা-পায়েসসহ নানান আয়োজনে জামাই ও স্বজনদের নিয়ে পালিত হচ্ছে কৃষকের কাঙ্ক্ষিত প্রাণের নবান্ন উৎসব। তাই জামাইদের নিয়ে বসেছে মাছের মেলা।

জয়পুরহাটের কালাই পৌরশহরের পাঁচশিরা বাজারে এক দিনের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা জমজমাটভাবেই বসেছে। এই দিনকে ঘিরে ভোর ৪টা থেকে সারাদিন চলে মাছ কেনা-বেচার উৎসব। এই দিনের অপেক্ষার প্রহর গোনেন এ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের লোকজন। ক্যালেন্ডার নয়, পঞ্জিকা অনুসারে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবারে এ জেলায় একমাত্র পাঁচশিরা বাজারে প্রতিবছর বসে মাছের মেলা।

অগ্রহায়ণ মাসে সীমান্তঘেঁষা জেলায় প্রচণ্ড ঠান্ডায় ভোররাত থেকেই মেলাজুড়ে ছিল ক্রেতা-বিক্রেতা আর কৌতূহলী মানুষের ঢল। প্রায় ১০০ বছর পূর্ব থেকে চলে আসা এই মেলায় নদী, দিঘি ও পুকুরের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা দেশীয় প্রজাতির টাটকা মাছে ছিল ভরপুর। সকাল থেকেই ক্রেতারা ভিড় জমায় মাছের মেলায়। মাঠ থেকে নতুন ফসল কৃষকদের ঘরে উঠলেই অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিনে আয়োজন করেন নবান্ন উৎসবের।

এই অনুষ্ঠান পালন করতে আসেন সারাদেশে বসবাসরত তাদের জামাই-মেয়ে, বিয়াই-বিয়ানসহ আত্মীয়-স্বজনরা। মূলত প্রতিযোগিতা করেই মেলা থেকে জামাইরা মাছ ক্রয় করে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যান। তাইতো মেলার প্রতিটি দোকানে সাজানো হয়েছিল দেশীয় জাতের বোয়াল, রুই, মৃগেল, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, পাঙ্গাস, ব্রিগেড, বাঘাআইরসহ নানান ধরনের মাছ।

মেলায় সর্বোচ্চ ২৫ কেজি ওজনের কাতলা মাছ বিক্রি হয়েছে ৩৭ হাজার টাকায়। এই মেলার আয়োজনও করতে হয় না। এদিন এলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বসে জেলার বৃহৎ মাছের মেলা। তবে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে মেলার জন্য প্রস্তুতি নেয়। আশপাশের এলাকায় তারা মাইকে প্রচারও করেন।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পঞ্জিকা অনুসারে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিনে এ মেলা বসে। অগ্রাহয়ণের প্রথম বৃহস্পতিবার দিনে নতুন ধান কাটার উৎসবে কৃষকদের প্রস্ততকৃত চালে প্রথম রান্না উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই নবান্ন উৎসব।

প্রতি বছরের অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটার পর নবান্ন উৎসব আয়োজন করেন জেলার প্রান্তিক কৃষক। সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত তাদের জামাই ও আত্মীয়-স্বজনকে আমন্ত্রণ করেন এই উৎসবে। এই অনুষ্ঠান পালন করতে যোগ দিতে আসেন জামাই-মেয়ে, বিয়াই-বিয়ান ও আত্মীয়-স্বজনরা।

এই দিনে জেলার গ্রামীণ জনপদে মেতে ওঠে উৎসবের আমেজ। কৃষকদের ঘরে ঘরে শুরু হয় নতুন চালের নবান্ন। সঙ্গে চলে পিঠা-পুলি, পায়েস, ক্ষীর, খই ও মুড়ি খাওয়ার ধুম। কৃষকদের পরিবারে ঘটে মিলন উৎসব। তাইতো দিনটি উপলক্ষে জেলার সর্ববৃহৎ মাছের মেলা বসেছে কালাই পৌরসভার পাঁচশিরা বাজারে। মাছ ব্যবসায়ীরা কয়েক দিন আগে থেকেই পাঁচশিরা বাজারে তাদের আড়ৎ ঘরে এলাকার বিভিন্ন দিঘি, পুকুর, নদী থেকে নানান জাতের বড় বড় মাছ সংগ্রহ করেন।

মেলা উপলক্ষে এ দিনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি, পেশাজীবীরা উচ্চমূল্যে এসব মাছগুলো ক্রয় করেন। এ বছর বোয়াল, রুই, মৃগেল, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, পাঙ্গাস, ব্রিগেড, বাঘাআইরসহ তিন কেজি থেকে ২৫ কেজি ওজনের মাছের সমাগম চখে পড়েছে মেলায়। আগের তুলনায় এ বছর মেলায় লোকজনের উপস্থিতিও ছিল বেশি। মাছ ক্রয়-বিক্রয়ও হয়েছে প্রচুর। কাউকেই খালি হাতে মেলা থেকে ফিরে যেতে চখে পড়েনি। সাধ্যমতো সবাই মাছ ক্রয় করেছে।

মেলায় মাছ বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম ও উজ্জল চন্দ্র বলেন, মাছের মেলাতে পুকুর, দিঘি ও নদী থেকে নানান জাতের বড় বড় মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। কাতলা, রুই, মৃগেল ৭শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা কেজিতে এবং বাঘাআইর, বোয়াল ও চিতল মাছ ১৩শ’ থেকে ২ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আর মাঝারি আকারের মাছ ৩৯০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা ছিল বেশি। তাই মাছও বিক্রি হয়েছে বেশি। দামও ছিল স্বাভাবিক। এবার মাছ নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়নি। লাভও হয়েছে মোটামুটি।

জালে ৭ লাখ টাকার কোরাল মাছ! রাতারাতি ভাগ্য খুলল জেলের