সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী হলো আওয়ামী লীগের ‘অল্টার ইগো’ বা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।’ তার মতে, দেশের রাজনীতিতে আ.লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও থাকবে, আর জামায়াত থাকলে আ.লীগও থাকবে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে নিয়ে জামায়াতের স্বচ্ছ কোনো ভিশন বা পরিকল্পনা নেই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত সাড়ে ১৪ মিনিটের সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহ, নতুন-পুরাতন বন্দোবস্তের সাম্প্রতিক সমীকরণ, সংস্কারের দৃশ্যমান রূপ থেকে গণমাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা— বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আলম জানান, তিনি চেয়েছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিগুলোকে এক করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ বা থার্ড অল্টারনেটিভ গড়ে তুলতে। তবে এনসিপি যখন পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা ‘ওল্ড পলিটিক্যাল সেটেলমেন্ট’-এর অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোট করল, তখন সেই ‘তৃতীয় শক্তি’ গড়ার স্বপ্ন পুরোপুরি ভেস্তে যায়।
জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, ‘যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে, তারা পুরনো কাঠামোরই অংশ। জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এমন অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যার কোনো উত্তর আমাদের কাছে নেই। কারণ, বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের স্বচ্ছ কোনো ভিশন বা পরিকল্পনা নেই।’
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, ‘আদর্শিক জায়গা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি—সব দিক থেকেই জামায়াতের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন সম্ভব নয়। গত দেড় বছরের যাত্রা ছিল এক ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র মধ্য দিয়ে যাওয়া। যেখানে পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা ‘ওল্ড পলিটিক্যাল সিস্টেম’ নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে, যা জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে।’
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করে মাহফুজ আলম বলেন, ‘ক্ষমতায় যে দলই আসুক— বিএনপি বা জামায়াত, সমাজের ভেতরে থাকা ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো সরকারই টিকবে না। শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার করলেই হবে না। সমাজে যদি ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা ‘রিনেগোসিয়েশন’ না হয়, তবে সমাজে মব ভায়োলেন্স বা বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।’
সাক্ষাৎকারে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করে না। এই বিশ্বাস ফেরাতে হলে গণমাধ্যমকে জনগণের কাছে তাদের অতীতের ভূমিকার জন্য এক ধরণের ক্ষমা বা বোঝাপড়ার জায়গায় আসতে হবে।’
বর্তমানে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা মাহফুজ আলম এখন বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলে সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা গেল না এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোতে হবে।
আরও পড়ুনঃ
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়লে সে মাসের ৮ তারিখে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ২৮ আগস্ট তিনি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান। একই বছরের ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হন মাহফুজ আলম। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
সূত্র: ইত্তেফাক
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


