
স্পোর্টস ডেস্ক : অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিসহ তিনজন। জামিনপ্রাপ্ত অপর আসামি হলেন, তামিমার মা সুমি আক্তার। ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীমের আদালতে এ তিন আসামি তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।
জামিন পাওয়ার পর ক্রিকেটার নাসির হোসেন বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আদালত সব দিক বিবেচনা করে জামিন মঞ্জুর করেছেন।’
অন্যদিকে, মামলার বাদী তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসরাত জাহান বলেন, ‘আদালতে তিন আসামিকে জামিন দিয়েছে। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। জামিনের বিরুদ্ধে আমরা দায়রা আদালতে আপিল করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই। অপরাধীদের শাস্তির মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তামিমা ও নাসির যা করেছে তা বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে হাজির হন নাসির-তামিমা দম্পতি। এরপরেই তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সম্পতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর মিজানুর রহমান এ তিনজনকে অভিযুক্ত করে এই প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীম ৩১ অক্টোবর আদালতে হাজির হতে সমন জারী করেন।
মামলার প্রতিবেদনে বলা হয়, তামিমা তার আগের স্বামী রাকিব হাসানকে ডিভোর্স দেওয়া সংক্রান্ত কাগজপত্র জালজালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করেছেন। নাসিরকে বিয়ের আগে রাকিবকে ডিভোর্স দেননি তামিমা। তাই নাসির-তামিমার বিয়ে আইনত অবৈধ।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মির স্বামী দাবি করে রাকিব হাসান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় আগের বিয়ে গোপন থাকা অবস্থায় অন্যত্র বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়ায় মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের ৮ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে জানেন।
মামলায় আরও বলা হয়, তাম্মি ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার শিশু কন্যা মানসিক বিপর্যস্ত। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


