অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা সময়জুড়েই মাঠে ছিলেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। তার আগে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে মাঠে নেমেছিলেন তারা। এবার বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় তিন মাস পর দুই বছর বাদে ব্যারাকে ফিরে যাবেন তারা।

আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৫ মে) কোর কমিটি প্রথম সভায় বসে। আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের জন্য গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই সভায় মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারা দেশের চাঁদাবাজি, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। দূরবর্তী জেলা থেকে প্রথমে প্রত্যাহার হবে, পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠপর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠলে ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনা নামায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। প্রবল আন্দোলন গড়ায় ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে। পরে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়ায় সেনাবাহিনী মাঠেই থেকে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও দেয়।
২০২৪ সালের আগস্টে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছিলেন, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যেতে চায়। পুলিশ পুনর্গঠিত হলে সেনাসদস্যরা নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাবেন। এরপর গত বছর নভেম্বর থেকে কিছু সেনাসদস্যকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার করে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সেনাসদস্যরা অন্যবারের মতোই মাঠে ছিলেন। নির্বাচন সম্পন্নের পর সেনাপ্রধান গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পুনরায় বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে মাঠপর্যায়ে এখনো ১৭ হাজার সেনাসদস্য রয়েছেন। মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে চূড়ান্ত প্রত্যাহার করতে বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে করতে সদস্যরা ক্লান্ত, তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন।
এ অবস্থায় মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের চূড়ান্তভাবে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
দুই বোন একে অপরের স্বামীর সঙ্গে থাকতে চান, আদালতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
সূত্র আরও জানায়, এখন এ সিদ্ধান্ত চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


