প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ। সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ কথা বলেন।

এ সময় জনসভা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা সভাপতিত্ব করেন এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন।
বিকাল পৌনে ৫ টায় প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে এসে পৌঁছালে হাজারো সমর্থক মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে সরকার প্রধানকে শুভেচ্ছা জানান। হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। জেলা বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করে। জনসভার আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জনতার ঢল নামে। প্রধনামন্ত্রীর নিজ এলাকায় আগমন উপলক্ষ্যে মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজ এই হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে, এই মিডিয়ার সামনে পরিষ্কারভাবে আমি আবারও বলে দিতে চাই- সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে জুলাই সনদে সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ। কিন্তু বারবার পরিষ্কারভাবে এই কথা বলে দেওয়ার পরেও আমরা দেখলাম যে কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথাবার্তা বলা শুরু করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে, তাদের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা এক যুগের বেশি সময় ধরে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, যা অনেক বছর ধরে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ভোটাধিকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ রায় দিয়েছে। ভোটের মাধ্যমে তারা জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই দেশের মানুষের বাক-স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। সকল প্রকার রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল, হরণ করা হয়েছিল তাদের ভোটের অধিকার। আমরা দেখেছি কীভাবে উন্নয়নের নামে প্রতারণা ও লুটপাট করা হয়েছে। অথচ আমরা নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই কাজের বাস্তবায়ন আমরা পর্যায়ক্রমে শুরু করেছি ।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষকে বলেছিলাম আমরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করব। আজকে এই বগুড়ার গাবতলীতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করে এসেছি। দেশের মানুষের সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে আল্লাহর রহমতে এই দেশের মায়েদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করব। সরকার গঠন করার সাথে সাথে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।
তারেক রহমান বলেন, শুধু তাই নয়, এখানে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা দেশের কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াব, মা বোনদেরকে যেমন ফ্যামিলি কার্ড দেব, তেমনি কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব। যেসব কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ রয়েছে, সেই কৃষি ঋণ আমরা সুদসহ মওকুফ করব। অঙ্গীকার অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজ শুরু করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় সেই কাজটি সরকার গঠনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করেছি। যার ফলে সারা বাংলাদেশে ১২ লাখ কৃষকের সুদসহ ঋণ মওকুফ হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী জনতার উদ্দেশে বলেন, আজকে আমরা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। খেয়াল করে দেখবেন, যারা এই সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে জুলাই সনদ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসার জন্য যে চিকিৎসা কমিশন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ যাতে সহজে ওষুধ ও চিকিৎসা পেতে পারে- তারা সেটির ব্যাপারে কোনো কথা বলে না। কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে, সেটির কথা তারা বলে না। তারা শুধু সংবিধান সংবিধান- এই বিষয়ে কথা বলে।
জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় আমি আপনাদের বলেছিলাম, কীভাবে তারা বিভ্রান্ত করছে। এই গুপ্ত বিভ্রান্তকারীরা আবারও এই বিভ্রান্তের কাজ শুরু করেছে।
দুদিন আগের ঘটনা, ময়মনসিংহের একটি জেলায় একটি ব্যক্তিগত তুচ্ছ ঘটনা ঘটেছে। এক ছেলে এক মেয়ের সাথে প্রেম করত, তারা বিয়ে-শাদি করেছে, এটি তাদের পারিবারিক সমস্যা। আপনারা ফেসবুকে দেখেননি? কিন্তু একই সাথে এটাও দেখেছেন- একটি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ঘটনাকে কারা রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তির সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, দেখেছেন আপনারা সবাই।
সারাদেশের মানুষের সমর্থন চেয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে পেলেন, তখন স্বৈরাচার বলেছিল, ‘এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দেব না’, মনে আছে?
তিনি বলেন, সেই একই ভূত কিন্তু আবার এদের উপরেও সওয়ার করেছে। দেখেন কেমন আন্দোলন আন্দোলন কথা বলে, আর ব্যক্তিগত ঘটনাকে কীভাবে রাজনৈতিক রূপ দিতে চায়, ঠিক দিনাজপুরের ইয়াসমিনের ঘটনার মত। ওই ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তি তৈরি করা হয়েছিল, ১৭২ দিনের হরতাল ডাকা হয়েছিল, মনে আছে নিশ্চয়ই আপনাদের।
রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে, তার একটি রূপরেখা ২০১৬ সালে তুলে ধরেছিলেন দলটির তখনকার চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। সেটির ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১২ জুলাই রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করে বিএনপি।
তারেক রহমান বলেন, যে সময়ে বিএনপি এই ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দেশের সামনে, জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল, বাংলাদেশের আর কোনো রাজনৈতিক দল বিএনপি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দল সংস্কারের ‘স’ শব্দটি তখন উচ্চারণ করেনি স্বৈরাচারের ভয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল খেটে খাওয়া মানুষের রাজনৈতিক দল, কৃষকের রাজনৈতিক দল, মা-বোনদের রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ৩১ দফা সংস্কার দিয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি স্বৈরাচার বিগত ১৬ বছরে কীভাবে পরতে পরতে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। কীভাবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, কীভাবে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, কীভাবে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, কীভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। কিছু মেগা প্রোজেক্ট করে দুর্নীতি করেছে, এর বাইরে কিছুই করেনি।
এর আগে আজ সকাল ৬টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাস বগুড়ার উদ্দেশে গুলশানের বাসভবন ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে সড়ক পথে বগুড়ায় যাওয়ার সময় রাস্তার দুপাশে হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছা ভালোবাসায় সিক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯ টা ৫৮ মিনিটে তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। বাস থেকে হাত নেড়ে জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষকে আবেগাপ্লত হতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তার প্রথম বগুড়া সফর।
বগুড়ায় আজ কর্মব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ১১টায় বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের উদ্বোধন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বগুড়াসহ সাত জেলায় এ ই-বেইলবন্ড সিস্টেম চালু হলো। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ এই তিনটির মধ্যে সমন্বয় করে দেশে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের সুফল মিলবে না। সামাজিক ভারসাম্য, সমতা এবং অধিকার নিশ্চিত করতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অন্যতম উপাদান। যা মূলত নৈতিকতা, আইন এবং মানুষের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি মৌলিক দিক।
তারেক রহমান বলেন, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকাই মুখ্য। এ কারণে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে হরণ করা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। কিন্তু ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিচার বিভাগকে দলীয় আদালতে পরিণত করা হয়েছিল।
আইনের দোহাই দিয়ে শাসন চালালেও তখন দেশে ‘ন্যায়বিচার’ ছিল না দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতা-প্রিয় মানুষ অন্ধকারের শাসন থেকে মুক্তি পায়। সুতরাং, বর্তমান সরকার এবার দেশে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, আদালত হয়রানির জায়গা নয়, বরং ন্যায়বিচার পাওয়ার নিরাপদ স্থল- জনমনে এমন বিশ্বাস দৃঢ় হলে সমাজ থেকে ‘মব ভায়োলেন্স’ দূর হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। এজন্য বর্তমান সরকার ‘ন্যায় ও আস্থার’ জায়গা হিসেবে বিচার বিভাগকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় জনগণের হয়রানি লাঘব করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বিচার, প্রশাসন ও বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের অংশ হিসেবে বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে ‘ই-বেইলবন্ড’ পদ্ধতি বাস্তবায়ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়েছে। দেশের সকল আদালতে ই-বেইলবন্ড পদ্ধতি চালু করা গেলে জনগণের বিচারপ্রাপ্তিতে বিলম্ব ও বৈষম্য দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার- একটি আরেকটির পরিপূরক। আমার কাছে মনে হয় রাষ্ট্রে আইনের শাসনই শেষ কথা নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজে আইনানুগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক। আমি মনে করি, জামিন প্রক্রিয়ায় ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা বিচারপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে একটি উল্লেখযোগ্য ধাপ।
‘ইলেক্ট্রনিক জামিননামা’ বা ই-বেইলবন্ড পদ্ধতির মাধ্যমে বিচার প্রার্থীদের হয়রানি লাঘব হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে আদালত থেকে জেলখানায় পৌঁছানো পর্যন্ত আইনজীবী, মুহুরি, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, পিয়নসহ নানা পরিক্রমায় কমপক্ষে ১৩টি ধাপ পার হতে হতো। ‘ই-বেইলবন্ড’ পদ্ধতি চালুর পর এখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে জামিননামা কিছু সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাচ্ছে। এ কারণে বর্তমান সরকার সারা দেশের সকল আদালতকে ই-বেইলবন্ড পদ্ধতির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এরই অংশ হিসেবে আজ থেকে বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া জেলায় আদালতের কার্যক্রমে ‘ই-বেইলবন্ড’ পদ্ধতি চালু হলো। এর ফলে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তির কারামুক্তির ক্ষেত্রে হয়রানি লাঘব হবে। অপরদিকে বিরোধীপক্ষ কিংবা মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের তৎপরতা কিংবা জামিননামা জালিয়াতির ঘটনার সুযোগও কমে যাবে।
তারেক রহমান বলেন, ই-বেইলবন্ড সিস্টেমকে পুলিশের সিডিএমএস, আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ড ভেরিফিকেশনের সাথে যুক্ত করার বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে বিচার ব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়াকেই বর্তমান সরকার কম্পিউটারাইজড সিস্টেমের আওতায় এনে এর আধুনিকীকরণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিচার ব্যবস্থায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট, রিলিজ অর্ডার এবং থানা থেকে ওয়ারেন্ট রিকলের কাজ সম্পন্ন করবে। এটি করা সম্ভব হলে এক জেলার অভিযুক্ত আসামি অন্য জেলায় গ্রেপ্তার হলে অনলাইনে দ্রুত ‘উপনথি’ প্রেরণের মাধ্যমে জামিন শুনানি করা সহজ হবে।
ফলে পুলিশি হয়রানি ও ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বন্দি করে রাখার যে অপসংস্কৃতি, তা নিরসন করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রযুক্তির উন্নয়নই নয়, আমরা মানসিকতারও উন্নয়ন চাই। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেই বিচার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রী, পুলিশ কিংবা কর্মকর্তা এবং একজন সাধারণ নাগরিকের মধ্যে কোনো তফাৎ থাকবে না। বিচার বিভাগ থাকবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনবদ্য পাদপীঠ। আমি বিশ্বাস করি, ‘এক্সেস টু জাস্টিস ফর অল’। ন্যায়বিচার কোনো দয়া বা করুণার বিষয় নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই ডিজিটাল উদ্যোগ সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি মাইলফলক। আমি আইন মন্ত্রণালয়, কারা কর্তৃপক্ষ এবং এই সিস্টেমের নেপথ্যে কাজ করা সকল আইটি বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে আইনজীবী ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা এই প্রযুক্তিকে সাদরে গ্রহণ করে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
এদিকে জেলখানায় কমপক্ষে ৩০ শতাংশ মানুষ অকারণে কিংবা টাকার অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারায় বছরের পর বছর বিনা বিচারে জেলে থাকতে বাধ্য হচ্ছে জানিয়ে এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটি খতিয়ে দেখতে তিনি আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ফলক উন্মোচন করেন। আজ সকাল সাড়ে ১১টায় পৌর ভবনে তিনি এ ফলক উন্মোচন করেন। এর ফলে বগুড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড়শ বছর পর সিটি কর্পোরেশনের মর্যাদা পেল। এটি দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন।
ফলক উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের অনেকদিনের দাবি ছিল, সেটি আজ পূরণ হলো। বগুড়া সিটি কর্পোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করল। বগুড়াকে একটি মডেল টাউনে পরিণত করার যে দাবি, তা সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আপনাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেখানে গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বগুড়ায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেছেন। গাবতলীর বাগবাড়ীতে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে দুপুর পৌনে ২টার দিকে সরকারপ্রধান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচিকে সরকারের অন্যতম সফল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিশুদের অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় আজ ৯১১ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দুপুরে উপজেলার বাগবাড়ীতে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে এ কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিএনপির দলীয় সঙ্গীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ পরিবেশন করা হয়। এ সময় দাঁড়িয়ে কণ্ঠ মেলান প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এতে যোগ দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সমর্থকরাও দাঁড়িয়ে কণ্ঠ মেলান।
নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমানের উন্নয়নে বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে গত ১০ মার্চ ঢাকায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। পরীক্ষামূলকভাবে আগামী জুন মাসের মধ্যে ১৪টি উপজেলায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবে। পরিবারে মা অথবা নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করবে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ডে রূপান্তর করা হবে।
পিতৃভূমি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে আজ খাল খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকাল পৌনে ৪ টার দিকে নশিপুরে প্রধানমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে চৌকিদহ খালের খনন কার্যক্রমের সূচনা করেন।
এ সময় বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোরশেদ মিলটন, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


