আন্তর্জাতিক জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

টেকনাফে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রকল্প উদ্বোধন করল আইওএম

জুমবাংলা ডেস্ক: কক্সবাজারের টেকনাফের প্রান্তিক মৎসজীবী সম্প্রদায়ের জন্য বাসস্থান সংস্কার এবং বৃত্তিমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

এই কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠী বাসস্থান সংস্কার এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ পেয়েছে। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া হিন্দু-প্রধান এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের জন্য এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সাইক্লোন, বন্যার মত প্রলয়ংকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে নাফ নদীর তীরে বসবাসরত এই জনগোষ্ঠী।

গত মঙ্গলবার বিকালে টেকনাফের হ্নীলার জেলেপাড়ায় উদ্বোধন করা হয় এই প্রকল্পের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আইওএমের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, সরকার ও মানবিক সহায়তার কাজে নিয়োজিত সরকারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো স্থানীয় মৎসজীবী সম্প্রদায়কে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এই ইতিবাচক সহযোগিতাকে স্বাগত জানাই যা স্থানীয় বাংলাদেশিদের উপকৃত করছে।

আইওএমের বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান ম্যানুয়েল পেরেইরা বলেন, এটি বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি আমাদের ক্রমবর্ধমান প্রতিশ্রুতির একটি অংশ। এটি এমন একটি প্রতিশ্রুতি যা ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এবং ক্রমবর্ধমান যেহেতু আইওএম কক্সবাজার ও এর আশেপাশের এলাকার স্থানীয়দের জন্য এর প্রকল্পগুলি বৃদ্ধি করছে। আগামী বছরও আইওএম ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো মিলে এই সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধান অতিথি উপকারভোগীদের কাছে তাদের সংস্কারকৃত বাসস্থানের চাবি হস্তান্তর করেন এবং আইওএম এবং সহযোগী সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নতুন বাসস্থানগুলো পরিদর্শন করেন।

উপকারভোগী অজিত দাস বলেন, এই কর্মসূচি তাকে ও তার পরিবারকে সহায়তা করেছে। মাছ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ায় আমাদের জন্য অনেক সমস্যা তৈরি করেছিল, তাই চাকরীর প্রশিক্ষণ এবং বাসস্থানের সহায়তায় আমার সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করার জন্য আইওএমকে ধন্যবাদ জানাই।

সহায়তা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

১. ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে বাসস্থান সংস্কার। মোট ২৯টি বাসস্থান সংস্কার করা হয়েছে এবং তা স্ব স্ব বাসিন্দাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া চারটি বাসস্থান নির্মাণাধীন এবং আরও একটি নির্মাণ করা হবে।

২. বিশ জন গ্রামবাসীকে বাঁশের বিভিন্ন সামগ্রী নির্মাণের দক্ষতার বিকাশ। সুবিধাভোগীদের বাসস্থানের দেয়াল এবং ছাদ তৈরির জন্য ব্যবহৃত বাঁশের চাটাই বানানো শেখানো হয়।

৩. ঘূর্ণিঝড় এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি-কমানো বাসস্থানের সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ।


জুমবাংলানিউজ/একেএ




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


rocket

সর্বশেষ সংবাদ