রেভিনিউ ভাগাভাগির চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার বেশি অর্থ দিয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে মঙ্গলবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের কাছে ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ টাকার চেক হস্তান্তর করেন নগদের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার আফজাল আহমেদ। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের রেভিনিউ থেকে এ অর্থ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের সহযোগী প্রশাসক মো. নাহিম উদ্দিন, নগদের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মো. সামসুল ইসলামসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, সেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের পুরো দায়িত্ব পালন করে নগদ লিমিটেড। এতে ডাক বিভাগের কোনো আর্থিক বিনিয়োগ নেই। তবে সেবা থেকে অর্জিত মোট রেভিনিউর ৫১ শতাংশ পায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এবং বাকি ৪৯ শতাংশ পায় নগদ।
এর আগে সেবা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ডাক বিভাগকে মোট ১৪ কোটি ৬০ লাখ ৯৪ হাজার ৬৬০ টাকা প্রদান করেছে নগদ। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে ৫ কোটি ৫১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৮ টাকা, ২০২২ সালে ৪ কোটি ৫০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৭ টাকা এবং ২০২০ সালে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
চেক হস্তান্তরের পর ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, নগদ এই খাতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে, যা গ্রাহকদের ক্যাশলেস লেনদেনে আরও উৎসাহিত করছে এবং খাতটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বছরে ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনতে নগদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি উদ্ভাবনী সেবা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রাহক স্বার্থ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির অবদান রয়েছে।
২০১৯ সালের মার্চে যাত্রা শুরুর পর থেকেই নগদ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
নগদ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির অর্থ বিতরণেও ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ, শিক্ষা উপবৃত্তি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অনুদান এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বিভিন্ন ভাতা বিতরণ। ভবিষ্যতে কৃষক কার্ড, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা বিতরণেও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


