
বিশেষ বিমানে ৬১ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে আজ মঙ্গলবার রাত ১০টায় হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে।
দুই দিনের এই সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সৌদি হজমন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
দাবিগুলো হলো এক. হজের সময় মিনা-মুজদালিফায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। দুই, সুশৃঙ্খল লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং তিন. মুজদালিফা থেকে আসার পর বয়স্ক হাজিদের বিশ্রাম নেওয়ার পর শয়তানকে পাথর মারার সুযোগ দেওয়া। এ ছাড়া হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হবে।
এ প্রসঙ্গ জানতে চাইলে ধর্মসচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার বলেন, ‘প্রথমবারের মতো সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তাঁরা হয়তো তাঁদের দেশের ওমরাহ ব্যবস্থাপনাসহ মক্কা ও মদিনায় পবিত্র দুই মসজিদের দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করবেন। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে মোটা দাগে তিনটি বিষয়ের নিশ্চয়তা চাইব। হজের সময় হাজিদের জন্য বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং লাগেজ ব্যবস্থাপনার নিশ্চয়তা চাইব। এ ছাড়া বয়স্ক হাজিদের মুজদালিফা হতে পাথর মারার সময় পরিবর্তন করার সুযোগ চাইব। এ বিষয়ে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হবে। নিশ্চয়ই তাঁরা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক হবেন।’
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২২ হাজারের কিছু বেশি মানুষ হজ পালন করেন। হজ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যা না হলেও মিনা-মুজদালিফায় হাজিদের তাঁবুতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের ঘাটতি ছিল। বাংলাদেশি হাজিদের অনেক টয়লেটে পানি ছিল না। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন হাজিরা। এ ছাড়া এবার হাজিদের ৬৫টি লাগেজ (ট্রলি) পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়কে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।
এ ছাড়া মুজদালিফা থেকে মিনায় আসার পর হাজিদের জামারায় (শয়তানকে পাথর মারার স্থান) পাঠানো হয়। সৌদি পুলিশ হাজিদের তাঁবু আটকে রাখে। শয়তানকে পাথর মারার আগে কাউকে তাঁবুতে প্রবেশ করতে দেয় না সৌদি কর্তৃপক্ষ। এতে ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি রোদে কয়েক কিলোমিটার হাঁটার পর বয়স্ক হাজিরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ মারাও যান। তাই বয়স্ক হাজিদের মুজদালিফা হতে মিনায় আসার পর তাঁবুতে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে পরে তাঁরা বিকেলে পাথর মারতে পারবেন। এতে বয়স্ক হাজিরা অসুস্থ হবেন না। এ বিষয়গুলো সৌদি হজমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে সমাধান চাওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি এম. শাহাদত হোসাইন তসলিম বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১০টায় সৌদি এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ বিমানে সৌদি হজমন্ত্রী ৬১ জন সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় নামবেন। সেখানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, ধর্মসচিবসহ আমরা তাঁকে বরণ করব। সকাল ১০টায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বৈঠক। এরপর যৌথ সংবাদ সম্মেলন। এরপর বেলা ১টায় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।’
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ হতে হাজিদের সেবা বৃদ্ধি ও ওমরাহ যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কিছু প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের ওমরাহ ও পর্যটন শিল্পের নতুন কর্মপরিকল্পনা পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে দেখানো হতে পারে বলে জানান হাব সভাপতি।
সৌদি হজমন্ত্রী হজ ও ওমরাহসংক্রান্ত অ্যাপস নুসুক উদ্বোধন করতে পারেন বলে জানান ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) মতিউল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে হজ ও ওমরাহসংক্রান্ত অ্যাপস নুসুক নিয়ে হজ এজেন্সিগুলোকে নিয়ে একটি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এটা মূলত হজ ও ওমরাহ অটোমেশনসংক্রান্ত অ্যাপস। সেখানে উনি থাকবেন।
উল্লেখ্য, সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আল-রাবিয়াহ গড সার্ভিস প্রোগ্রাম কমিটিরও চেয়ারম্যান। ২০২১ সালের অক্টোবরে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-রাবিয়াহকে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। বর্তমান দায়িত্বের আগে আল-রাবিয়াহ সৌদির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।
মশার কামড়ের ভয়ে বক্তব্য ভুলে গেলেন অর্থমন্ত্রী, পরে চাইলেন ক্ষমা
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



