ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) কোচিং সেন্টার, কোচিং ও টিচিং ইউনিভার্সিটি বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে তিনি দেশসেরা এ বিদ্যাপিঠের গবেষণার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ঈদ উপলক্ষে সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। পডকাস্টে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ব্যারিস্টার রাশনা ইমামও অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি তো বলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং সেন্টার। ইউনিভার্সিটি সিস্টেমটা তৈরি হয় দুটো কাজ করার জন্য। একটা হলো- নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা, তারপর জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া। এ দুটো সিমুলটেনিয়াসলি করার জন্য ইউনিভার্সিটি তৈরি হয়। তারপর শতক্ষণেক বছর আগে কিছু জায়গায় এটা মডিফাই করা হয় যে, আচ্ছা সব ইউনিভার্সিটি তো আসলে ভালো ইউনিভার্সিটি না, কিছু ইউনিভার্সিটি আসলে কোচিং সেন্টার। কিন্তু ওরা নিজেদের ইউনিভার্সিটি বলতে চায়। তাহলে চলো ওদের জন্য একটা নতুন নামকরণ করি। লাস্ট ৪০-৫০ বছরে এটাকে নামকরণ করা হয় টিচিং ইউনিভার্সিটি। এটা আসলে কোচিং ইউনিভার্সিটি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় সেইম কোচিং ইউনিভার্সিটি। আমি বলি কোচিং সেন্টার। আসল নাম হলো টিচিং ইউনিভার্সিটি। এগুলো টিচিং ইউনিভার্সিটি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যখন অরিজিন হয় তখন আইডিয়াটা ছিল যে এটা রূপান্তরিত হবে প্রপার ইউনিভার্সিটিতে। আনফরচুনেটলি এটা রূপান্তর হয়নি। আজকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি- ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যে পরিমাণ গবেষণা করে তার কানাকড়িও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না। যেখানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টেট সাবসিডাইজড। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ১০০ এর বেশি মেজর (বিভাগ) আছে যেগুলো সার্টিফিকেট দেয়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সেই জায়গা থেকে ব্র্যাক এবং নর্থ সাউথ দুইটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, তাদের ডিপার্টমেন্ট আছে বোধহয় ছয়টা কি সাতটা। তারা অনেক বেশি মানে বাই মার্জিনস, বেশি গবেষণা করে।
গবেষণাপত্রে প্লেজারিজমের অভিযোগ তুলে ববি হাজ্জাজ বলেন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি গবেষণা তো করেই না, যা দুই একটা পাবলিশ করে পুরাই প্লেজারাইজড। মানে ফুল প্লেজারাইজড। বিগত দিনগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা হয়েছে। ফুল পেপার প্লেজারাইজ করে নিজেরাই নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিশ করেছে। বিদেশি কোনো ভালো জার্নাল তো পাবলিশ করবে না। নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় জার্নালেই পাবলিশ করেছে। ধরা পড়েছে, ধরা পড়ার পর প্রমোশন পেয়েছে। এরকম অনেক দৃষ্টান্ত আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অতীতের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, একজন ভিসি বলেছিলেন না, ওই যে ১০ টাকায় চা, সিঙ্গারা, সিগারেট পাওয়া যায় বলেছিলেন। আমি এখন ভালো মনে করতে পারছি না। ঢাকা ইউনিভার্সিটি আসলে ওই কোয়ালিটির রয়ে গেছে। লোকজন মন খারাপ করবে আমার কথা শুনে। বাট দ্যাট ইজ দ্য কেস।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সমালোচনার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি এ কথাগুলো বলছি কারণ এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি আমাদের স্টেট রিসোর্স, আমাদের এটাকে ওই জায়গায় নিয়ে যেতে হবে যেখানে এটা আর কোচিং সেন্টার না থাকে। ১০ টাকার চা-সিঙ্গারার স্টেশন না হয়। এটা আসলেই প্রোপার একটা বিশ্ববিদ্যালয় হয়। সেটা আমদের করতে হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



