বিএনপি জনরায়ে সরকারে গেলে রাজধানী ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ তৈরি এবং সড়কগুলো প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে আপনাদের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করবে ইনশাআল্লাহ। বিএনপি দায়িত্ব নিলে এই রাজধানী ঢাকা হবে সবচেয়ে ‘নিরাপদ মহানগরী’।
গতকাল দুপুরের পর নিজের নির্বাচনি (আসন ঢাকা-১৭) এলাকার ইসিবি চত্বর, ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১১ আসনের অধীন ছয়টি নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্যে এসব প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের অঙ্গীকারও তিনি করেন। এসব পথসভায় সংশ্লিষ্ট আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। প্রতিটি পথসভা বিরাট জনসভায় রূপ নেয়।
গতকাল ও আজ সোমবার দুই দিনে অন্তত ১৪টি স্থানে তিনি পথসভায় অংশ নেবেন। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আপনাদের দোয়ায় বিএনপি ১২ তারিখের নির্বাচনের জনরায়ে সরকার গঠন করলে ঢাকাকে একটি সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে মানুষ বুকভরে শ্বাস নিতে পারবে। সমগ্র ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ তৈরি করব আমরা। যাতে আমাদের সন্তানেরা খোলা মাঠে খেলাধুলা করতে পারে এবং মুরুব্বি ও মা-বোনেরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিকালে বা অন্য সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে পারেন।’ ঢাকা-১৭ আসনের ইসিবি চত্বরে তারেক রহমান উপস্থিত হলে বিএনপির উচ্ছ্বসিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা তাঁকে স্বাগত জানান। এখানে তিনি নিজেকে এলাকার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে ছোটবেলা থেকে এই এলাকায় বড় হওয়ার স্মৃতিচারণা করেন এবং তাঁকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানান। গুলশান, বনানী, ঢাকা সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি যেহেতু এই এলাকারই সন্তান, এই এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ১২ তারিখে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাই।’ অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ইসিবি চত্বর থেকে জসীমউদ্দীন সড়ক পর্যন্ত বিদ্যমান রাস্তাটি আরও প্রশস্ত করা হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে মানুষের উন্নত জীবনযাপন ও সহজ যাতায়াতের কথা চিন্তা করে এই এলাকার রাস্তার প্রসার ঘটানো হবে। নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে ইসিবি চত্বরের পর ঢাকা-১৬ আসনে পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠ, ঢাকা-১৫ আসনে মিরপুর-১০ গোলচত্বরসংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা-১৪ আসনে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় ফটক, ঢাকা-১৩ আসনে শ্যামলী ক্লাব মাঠ এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডার সাঁতারকুলের সানভ্যালি মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
পথসমাবেশগুলোতে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ১২ তারিখ সেই কেড়ে নেওয়া অধিকার ফিরে পাওয়ার দিন। ১২ তারিখের নির্বাচন দেশ গঠন ও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। তারেক রহমান পরিষ্কার ভাষায় বলেন, ক্ষমতায় গেলে ’৭১ ও ’২৪ জুলাইয়ের শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে বিএনপি। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কাজ করবে বিএনপি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে দেশব্যাপী এক লাখ হেলথকেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ঢাকার যেসব আসনে হাসপাতাল নেই, সেসব এলাকায় দ্রুত একটি করে হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। বিএনপি সরকারে গেলে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মাবলম্বী ধর্মগুরুদের সহায়তা প্রদান করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, ধর্মের কথা বলে একটি গোষ্ঠী মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। দেশের সরল মা-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাদের বিভ্রান্ত করছে। নকল সিল তৈরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে একটি দলের লোকজন।
রাজধানী ঢাকাকে সবচেয়ে নিরাপদ ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই শহরে মারাত্মক বায়ুদূষণ সমস্যা রয়েছে। এ মহানগরীকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যেন মানুষ বুকভরে নিশ্বাস নিতে পারে। এ সময় তিনি ঢাকা মহানগরীতে ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণেরও আশ্বাস দেন। বেলা সাড়ে ৩টায় ক্যান্টনমেন্ট থানার ইসিবি চত্বর থেকে শুরু হয় পথসভার কার্যক্রম। ইসিবি চত্বরের পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৭ নির্বাচনি কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার, সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম, মুস্তাফিজুর রহমান সেগুনসহ দলের ক্যান্টনমেন্ট ও ভাষানটেক থানার নেতারা। তারেক রহমান ইসিবি চত্বরের পথসভায় এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদেরই সন্তান। আপনাদের এই এলাকায় আমি, আমার ছোট ভাই, আমার সন্তান এবং আমার ভাইয়ের সন্তানদের জন্ম। আমি বড় হয়েছি, বিয়েও করেছি এখানে। সুতরাং আপনাদের কাছে আমার অনেক বেশি অধিকার। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবেন।’
তিনি ইসিবি চত্বর থেকে মানিকদির ভিতর দিয়ে উত্তরার জসীমউদ্দীন রোড পর্যন্ত রাস্তাটিকে চার লেনে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ওই এলাকায় খেলার মাঠ নেই। তাই মাঠের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে দোয়া চান যেন সারা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারেন।
ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকের নির্বাচনি এলাকা পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে নির্বাচনি পথসভায় তারেক রহমান বলেন, দেশ পুনর্গঠন ও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য কাজ করছে বিএনপি। তিনি বলেন, বিপক্ষ দলের সমালোচনা করলে গিবত গাইলে জনগণের কোনো লাভ হবে না। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। ঢাকা-১৬ নির্বাচনি এলাকার মানুষের চিকিৎসা জন্য একটি হাসপাতাল তৈরি করা হবে। চাকরির জন্য যারা বিদেশ যেতে চাইবে তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে। পানি সমস্যা দূর করতে সমগ্র বাংলাদেশে খালখনন করা হবে। সরকার গঠন করতে পারলে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সবার আগে ঢাকার খালখনন কর্মসূচি চালু করা হবে। জনগণের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবার আগে ঠিক করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবে বিএনপি। তিনি বলেন, সবার আগে দেশ। তাই যেকোনো মূল্যে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


