জাহিদ ইকবাল: সকল জল্পনা-কল্পনা, হিসাব-নিকাশ আর শেষ মুহূর্তের উত্তেজনাকে ছাপিয়ে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ঢাকা-১৮ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের “হ্যাঁ–না” সিদ্ধান্ত ঘিরেও ছিল ভোটারদের আলাদা আগ্রহ। দিনভর ভোটগ্রহণ, কেন্দ্রভিত্তিক উত্তেজনা এবং রাতভর গণনা শেষে অবশেষে চূড়ান্ত ফলাফলে এগিয়ে থেকে বিজয়ের হাসি হাসলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুল ইসলাম–এর চেয়ে ৩৪ হাজার ৪৫০ ভোট বেশি পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন পেয়েছেন ১,৪২,৯৫৭ ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ১,০৮,৫০৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান শুরুতে অনুমানের চেয়ে কম হবে—এমন আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান বড় আকার ধারণ করে, যা নির্বাচনী বিশ্লেষকদেরও নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করেছে।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৮ জন। সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণ ভোটার, প্রথমবারের ভোটার এবং নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচনে আলাদা মাত্রা যোগ করে। অনেক কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদেরও—যা গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন।
বিজয়ী প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন নিজে ভোট প্রদান করেন মালেকাবানু আদর্শ বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে। ভোট দিয়ে বের হয়ে তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং ভোটারদের অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। দিন শেষে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনই দেখা গেছে ফলাফলে।
পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা ছিল নজিরবিহীন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ছিল বাড়তি নজরদারি। টহল, চেকপোস্ট, মোবাইল টিম—সব মিলিয়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল পুরো এলাকা। ফলে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে। কোথাও কোথাও সামান্য অভিযোগ উঠলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রশাসনের হাতে—এটাই এই আসনের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দিক।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দনের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজয়ের উল্লাসের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বিভক্ত ভোটারদের আস্থা এক সুতোয় গাঁথা।
আরও পড়ুনঃ
ঢাকা-১৮ আসনের এবারের নির্বাচন প্রমাণ করলো—সংখ্যার হিসাব যতই জটিল হোক, শেষ কথা বলে ভোটারই। গণতন্ত্রের ময়দানে ব্যালটই চূড়ান্ত শক্তি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


