জুমবাংলা ডেস্ক : রাজধানীর হাজারীবাগে তানিয়া আক্তার (৩৫) হ ত্যা কা ণ্ডে বাড়ির মালিক মোস্তাকিম আহমেদ এলাইম শাহিনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দুদিন রিমান্ডে পেয়েছে।

তানিয়ার আলাদা ফ্ল্যাটে ওঠার ব্যাপারে জানতেন না স্বামী

রোববার দুপুরে হাজারীবাগ ১৭/১ মিতালি রোডের বাসার সাত তলার কক্ষের ভেতরের বাথরুম থেকে তানিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

প্রেম করে বিয়ে করলেও দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে থাকতেন না তানিয়া আক্তার ও আজিজুর রহিম। তানিয়া ঢাকায় আর তার স্বামী থাকতেন কুমিল্লায়।

এ বিষয়ে তানিয়ার স্বামী আজিজুর বলেন, তার (তানিয়া) বাবার বাসা ছেড়ে শাহিনের ফ্ল্যাটে ওঠার বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হলেও আমাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। প্রথম থেকেই তানিয়া বাচ্চা নিতে চাইতো না। আমি তাকে একবার দুবাই নিয়ে যাই। সেখানেও সে থাকেনি। গত তিন বছর আমি দেশে চলে আসছি। কুমিল্লাতে থাকি কিন্তু তানিয়া বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকত। সে আমার কাছে ডিভোর্স চাইতো। বিষয়টি নিয়ে আমাদের দুই পরিবারও উদ্বিগ্ন ছিল।

তিনি আরও বলেন, তানিয়ার সঙ্গে আমার সর্বশেষ গত বুধবার কথা হয়। সে বলেছিল এক সপ্তাহের মধ্যেই কুমিল্লায় চলে আসবে।

শাহিনের বিষয়ে তিনি বলেন, তানিয়া মাঝে-মধ্যে শাহিনের সঙ্গে কথা বলত। আমি জানতে চাইলে বলত ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলেছে। আমি সরল মনে বিশ্বাস করতাম।

রাজধানীর হাজারীবাগে যে ফ্ল্যাটে তানিয়া থাকতেন সেখান থেকে রোববার তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাড়ির মালিক মোস্তাকিম আহমেদ এলাইম শাহিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, তানিয়া ও বাড়ির মালিক শাহিনের মধ্যে অনেক আগে থেকেই একটা সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই হত্যাকারী হিসেবে সন্দেহের তালিকায় প্রথম অবস্থানে ছিলেন শাহিন।

তানিয়ার মামা আলমগীর হোসেন দাবি করেন, হাজারীবাগ থানার ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও পদধারী নেতা শাহিন। তানিয়াও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের দীর্ঘদিনের পরিচয়, অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে তারা একসঙ্গে প্রচারণাও চালিয়েছেন। তানিয়ার মা আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতি করেন। তানিয়াদের বাসায় শাহিনের নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল। সম্প্রতি ঘটা করে তানিয়ার জন্মদিনও পালন করেছেন শাহিন। স্বামী থাকার পরও শাহিনের বাসায় ওঠার বিষয়টিতে তিনিও অবাক হয়েছেন।

আলমগীর হোসেন আরও বলেন, তানিয়া রাজধানীর লালমাটিয়া কলেজে পড়াকালীন ফেসবুকে প্রবাসী আজিজুরের সঙ্গে পরিচয় হয়। ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ তাদের বিয়ে আমি নিজে থেকে দিয়েছি। তানিয়া স্বাধীনচেতা টাইপের ছিল।

পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, শাহিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। তবে তার পদ সম্পর্কে জানাতে পারেনি ওই সূত্র।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) বলেন, সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসেবে বাড়ির মালিক শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তানিয়া ও শাহিনের মধ্যে অনেক আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শাহিনের রাজনৈতিক পদ-পদবি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Sabina Sami is a Journalist. He is the Sub-Editor of Zoom Bangla News. He is also a good writer.