ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

Advertisement
অতিসংক্রামক হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া সাড়ে তিন শতাধিক শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসুবিধাসহ হাম চিকিৎসার বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

এ ছাড়াও হামের প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত কারণ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) ইউনিসেফ, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে প্রাথমিক শুনানির পর আদালত এই নির্দেশনা দিলে কমিটি যেন ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে, সে নির্দেশনাও চেয়েছেন রিটকারীরা। একই সঙ্গে হামের পাশাপাশি দেশে জলাতঙ্ক রোগের অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন বা টিকার মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার হালনাগাদ তথ্য সাত দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব, মোহামমদ কাউছার, মো. মাকসুদুর রহমান গতকাল জনস্বার্থে এ রিট করেন। রিটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ৫ মে বিবাদীদের আইনি নোটিস পাঠিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু নোটিসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যকর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা এবং হাম পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আদালতের অনুমতি নিয়ে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়।’ বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর দ্বৈত বেঞ্চে আজ রিটটিতে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই আইনজীবী। রিটে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সারা দেশে হাজার হাজার শিশু এখনো আক্রান্ত। পরিস্থিতি এমন যে, হামের এই প্রাদুর্ভাব গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। সাড়ে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু আকস্মিক কোনো ঘটনা নয় উল্লেখ করে রিটে আরও বলা হয়েছে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নীতিগত পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের কার্যকর ব্যবস্থার ব্যত্যয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা উপেক্ষা এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য অবকাঠামোর অভাবেই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হামের টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নিলে টিকা সরবরাহ ও টিকাদান কর্মসূচিতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ইউনিসেফ একাধিকবার সম্ভাব্য টিকা সংকট, হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে সতর্ক করলেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে রিটে।

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৪০০ ছাড়াল : দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৪৪ শিশু। এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে ৪০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) চার শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। বাকি সাতজনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এই ১১ শিশুর মধ্যে ছয়জন ঢাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটে দুজন করে শিশুর মৃত্যু হয়। বরিশালে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৮১৯ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ হাজার ১৫৯। এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ হাজার ৯০৯ এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩০ হাজার ৮৬২ জন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Arif Arman is a journalist associated with Zoom Bangla News, contributing to news editing and content development. With a strong understanding of digital journalism and editorial standards, he works to ensure accuracy, clarity, and reader engagement across published content.