তুর্কি ড্রোনের রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নতুন অত্যাধুনিক যুদ্ধ ড্রোনের রেকর্ড গড়েছে তুরস্কের জাতীয় বিমান বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রধান এমন তথ্য দিয়েছেন।

এক টুইটবার্তায় প্রেসিডেন্সি অব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজের (এসএসবি) প্রধান ইসমাইল দামির বলেন, যুদ্ধে ব্যবহার উপযোগী মানববিহীন আকাশ যান (ইউসিএভি) আকিনসি ৩৮ হাজার ৩৯ ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হয়েছে। তুরস্কের সরকারি সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি সাবাহ এমন খবর দিয়েছে।

উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় তুরস্কের টেকিরডাগ প্রদেশের করলু জেলায় ফ্লাইট প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় আকিনসি নামে এই যুদ্ধ ড্রোন ২৫ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট আকাশে ছিল। এ রেকর্ড উড্ডয়ন সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ড্রোনটি প্রস্তুতকারী কোম্পানি বিয়াকর প্রতিরক্ষা জানিয়েছে, এসএসবি নেতৃত্বাধীন প্রকল্প ছিল ইউসিএভি। সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ-দূরত্বের ফ্লাইট ও অতি উচ্চতায় উড্ডয়ন করেছে ড্রোনটি।

আকাশের সাত হাজার ৫০৭ কিলোমিটার দূরত্ব এটির আওতায় থাকবে। পরীক্ষার সময় আকিনসি ৮৭০ বার একক উড্ডয়ন করেছে এবং ৩৪৭ ঘণ্টা ২৪ মিনিটের ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করে ইউসিএভি। আগের তিনটি ড্রোনের সঙ্গে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় কোরলু এয়ারপোর্ট কমান্ড সেন্টারে এটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম হয়েছে।

প্রতিরক্ষা ঠিকাদার রোকেটসানের উদ্ভাবিত গোলাবারুদ ব্যবহার করে গত এপ্রিলের শেষ দিকে প্রথম ফায়ারিং পরীক্ষায় টিকে যায় এই ড্রোন। আর এটি প্রথম গুলি চালায় ন্যাম-টি, ন্যাম-সি এবং ন্যাম-এল স্মার্ট ক্ষুদ্র গোলাবারুদ (ন্যাম) দিয়ে।

এখন ব্যাপকহারে আকিনসি ড্রোন তৈরির পথে হাঁটবে তুরস্ক। বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও করতে পারে। চলতি বছরেই তার প্রথম সরবরাহটি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে বিয়ারাকতার টিবি২ ইউসিএভি ড্রোনের সফল উৎপাদন করা হয়েছে তুরস্কে।

কাতার, ইউক্রেন ও আজারবাইজানে যুদ্ধ ড্রোনের সক্রিয় ব্যবহার করা হয়েছে। ন্যাটো কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদের মধ্যে প্রথম কোনো দেশ হিসেবে তুরস্কের ড্রোন সংগ্রহ করবে পোল্যান্ড।

মার্চে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেন, সৌদি আরবও তুরস্কের ড্রোন কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও উপসাগরীয় দেশটির সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।

বিয়ারাকতার টিবি২-এর চেয়ে আকিনসি আকারে দীর্ঘ ও চওড়া। কৌশলগত কাজেও ব্যবহার করা হতে পারে এটি। আকিনসির প্রায় ১০০ কম্পিউটার সিস্টেম আছে। এটির নকশা, সফটওয়্যার, অ্যাভায়োনিকস ও ম্যানিকসের উৎপাদক বিয়াকার।

ড্রোনটির উড্ডয়ন ওজন সাড়ে পাঁচ টন। আর গোলাবারুদ বহনের সক্ষমতা এক হাজার ৩৫০ কিলোগ্রাম। ডানারপ্রসার ২০ মিটার। এটির ডানার কাঠামো এককভাবে বাঁকানো।


জুমবাংলানিউজ/এসআই