মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান হামলার জবাবে ইরান একের পর এক পালটা হামলা চালিয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। সোমবার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি রপ্তানিকারক কাতারএনার্জি তাদের স্থাপনায় সামরিক হামলার পর উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৫০% পর্যন্ত বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার ১০% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারের বেশি ছুঁয়ে যায়। সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীর কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর এ দাম বৃদ্ধি পায়।
ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যেন কোনো জাহাজ চলাচল না করে। বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ১% কমে লেনদেন শুরু করে। নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও নিম্নমুখী ছিল।
লন্ডনে এফটিএসই ১০০ সূচক ১% কমে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বিঘ্নের কারণে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ার বড় পতনের মুখে পড়ে।
বার্কলেস, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও এইচএসবিসি’র মতো ব্যাংকগুলোর শেয়ারদরও কমে যায়। জ্বালানির দাম দীর্ঘসময় বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে এবং এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা স্থগিত করতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।
ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে আরও বড় পতন দেখা গেছে। ফ্রান্সের সিএসি-৪০ সূচক ১.৮% এবং জার্মানির ড্যাক্স সূচক দুপুরের দিকে ২.১% পর্যন্ত কমে যায়।
এদিকে অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণের দাম ২% বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩৮৮ ডলারে পৌঁছেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত কাতারএনার্জি জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অবস্থিত তাদের একটি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করলে তারা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রাজধানী দোহার দক্ষিণে মেসাইইদ এলাকায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকেও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
এদিকে প্রতিবেশী সৌদি আরবে ড্রোন হামলার পর উপকূলীয় রাস তানুরায় অবস্থিত আরামকোর প্রধান তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, দুটি জাহাজে হামলা হয়েছে এবং একটি তৃতীয় জাহাজের খুব কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়েছে।
প্রাথমিক উল্লম্ফনের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় ৭.৬% বেড়ে ৭২.২০ ডলারে দাঁড়ায়।
এমএসটি মারকির জ্বালানি গবেষণা প্রধান সাউল কেভোনিক বিবিসিকে বলেন, বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েনি। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তেল পরিবহন ও উৎপাদন অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করেনি—এ নিয়ে কিছুটা স্বচ্ছতা রয়েছে।
তিনি যোগ করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল শুরু হওয়ার লক্ষণ দেখলেই তেলের দাম আবার কমতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


