এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় এশিয়ার শিল্পোন্নত দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদন খাতে বাংলাদেশি অদক্ষ নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে দেশটিতে চাকরিপ্রত্যাশীদের ২০২৭ সালের শেষার্ধে রোস্টারভুক্তির জন্য আগ্রহীদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে। কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও শারীরিকভাবে সক্ষম ও অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে দুই হাজার যোগ্য প্রার্থীকে রোস্টারভুক্ত করবে। এ জন্য ২০ হাজার প্রার্থীর কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হবে।

বুধবার (১ জুলাই) এ-সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। কোরিয়া সরকারের পক্ষে এ বিষয়টি পরিচালনা করে দেশটির হিউমেন রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস অব কোরিয়া (এইচআরডি কোরিয়া)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচআরডি কোরিয়ার চাহিদা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উৎপাদন (Manufacturing) খাতে ২ হাজার জন প্রার্থীকে জব রোস্টারভুক্তির লক্ষ্যে সর্বমোট ২০,০০০ (বিশ হাজার) জন প্রার্থীকে কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা হবে।
ই-৯ কোটায় এই নিয়োগের লক্ষ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম দুই পর্যায়ে সম্পন্ন করা হবে, যেমন—
প্রথম পর্যায়: ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইতোমধ্যে যারা জব রোস্টার থেকে ডিলিট হয়েছেন বা হবেন (উৎপাদন, নিমার্ণ, মৎস্য ও জাহাজ নিমার্ণ শিল্প খাত), এমন প্রার্থীদের পুনরায় কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে যেসব প্রার্থীর জন্মতারিখ ১১ জুলাই ১৯৮৬ থেকে ১০ জুলাই ২০০৮ সালের মধ্যে, শুধু তারাই আবেদন করতে পারবেন।
নিবন্ধন কার্যক্রম
প্রথম পর্যায়: ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জব রোস্টার থেকে ডিলিট হয়েছেন বা হবেন (উৎপাদন, নির্মাণ, মৎস্য ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প খাত) এমন প্রার্থীদের পুনরায় কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। সে লক্ষ্যে যেসব প্রার্থীর জন্মতারিখ ১১ জুলাই ১৯৮৬ থেকে ১০ জুলাই ২০০৮-এর মধ্যে, শুধু তারা আবেদন করতে পারবেন।
প্রথম পর্যায়ের নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ১০ জুলাই থেকে শুরু হয়ে চলবে ১২ জুলাই পর্যন্ত।
দ্বিতীয় পর্যায়: প্রথম পর্যায়ের নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট আসনের বিপরীতে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির ৩ ও ৪ নম্বর শর্তাবলি অনুযায়ী সাধারণ প্রার্থীদের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ পর্যায়ে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ (First Come, First Served) ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের নিবন্ধনের লক্ষ্যে যেসব প্রার্থীর জন্ম তারিখ ১৫ জুলাই ১৯৮৬ থেকে ১৪ জুলাই ২০০৮-এর মধ্যে, কেবল তারা আবেদন করতে পারবেন।
দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রার্থীদের জন্য আবেদন আগামী ১৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত।
বিশেষ নির্দেশনা
একজন প্রার্থী শুধু একটি ধাপে আবেদন করতে পারবেন। কোনো প্রার্থী উভয় ধাপে আবেদন করলে তার নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হবে। নিবন্ধনের সময় প্রদত্ত তথ্যসহ প্রমাণাদি পরিষ্কার, সঠিক ও সত্য হতে হবে; ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
পরীক্ষার সময়সূচি
আগামী ১৫ আগস্ট ২০২৬ নিবন্ধনকৃত প্রার্থীদের জন্য পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। ৫০ মিনিটের মধ্যে মোট ২০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে রিডিং ১০০ (সময় ২৫ মিনিট) ও লিসেনিং ১০০ (সময় ২৫ মিনিট)।
নিবন্ধনের শর্তাবলি
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী ১৭টি দেশের জন্য এইচআরডি কোরিয়া কর্তৃক কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষা ও স্কিল টেস্ট পরীক্ষার নির্ধারিত ফি ২৮ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এই অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি এইচআরডি কোরিয়ার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে এইচআরডি কোরিয়া কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষা ও স্কিল টেস্ট পরিচালনাসহ লজিস্টিক সেবার যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রার্থী প্রতি সংশ্লিষ্ট দেশের সেন্ডিং এজেন্সিকে ৮ মার্কিন ডলার প্রদান করে থাকে। নিবন্ধন কার্যক্রম স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বোয়েসেল পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনলাইন নিবন্ধন ফি ৫০০ (পাঁচশ) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফি পরিশোধের মাধ্যমে একজন প্রার্থী ঘরে বসেই অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্নসহ পরীক্ষা অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।
যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্তাবলি
১. কোরিয়ান ভাষা পড়া, লেখা ও বোঝার মৌলিক পারদর্শিতা থাকতে হবে;
২. ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমান হতে হবে;
৩. বয়স ১৮ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে হতে হবে;
৪. পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বৈধ ও হালনাগাদ থাকতে হবে;
৫. পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত নাম, জন্ম তারিখ এবং ছবির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে;
৬. 3D (Dirty, Difficult and Dangerous) প্রকৃতির কাজ করার মানসিকতা ও আগ্রহ থাকতে হবে;
৭. কালার ব্লাইন্ডনেস (Color Blindness) বা রঙ শনাক্তকরণে কোনো সমস্যা থাকা যাবে না;
৮. পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-আচরণ ও কথোপকথনে শালীনতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে;
৯. মাদকাসক্ত/সিফিলিস শনাক্ত ব্যক্তিগণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন;
১০. ফৌজদারি অপরাধে জেল বা অন্য কোনো শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন;
১১. দক্ষিণ কোরিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানকারীগণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন;
১২. দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আছে এমন ব্যক্তিগণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন এবং
১৩. ই-৯ বা ই-১০ ভিসায় কোরিয়াতে ৫ বছরের বেশি অবস্থানকারীগণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
বিস্তারিত তথ্য বোয়েসেলের (https://boesl.gov.bd) পেজ থেকে জানা যাবে এবং আবেদনের নির্ধারিত তারিখের আগে বোয়েসেলের ফেসবুক পেজে (https://www.facebook.com/boesl.gov.bd) নিবন্ধনের বিস্তারিত জানানো হবে।
বোয়েসেল জানায়, রোস্টারভুক্ত হওয়ার পর কোরিয়ান নিয়োগদাতার কর্মী নিয়োগের চাহিদার ভিত্তিতে কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জব সেন্টারগুলো রোস্টারভুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে দৈবচয়ন (Random Selection) পদ্ধতিতে ১:৩ অনুপাতে প্রার্থীদের তথ্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার কাছে উপস্থাপন করে। সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা তার প্রয়োজন, চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী ৩ জন থেকে ১ জন কর্মী নির্বাচন করে থাকেন। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, জব রোস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কোনো প্রার্থী চাকরির সুযোগ লাভ করতে না পারলে তার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোস্টার থেকে বাতিল (Delete) হয়ে যায়। অতএব, জব রোস্টারে অন্তর্ভুক্তি চাকরি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে না; বরং এটি চাকরির জন্য প্রার্থী নির্বাচনের একটি ধাপমাত্র।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই প্রক্রিয়া শুধু বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। ইপিএস কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের মোট ১৭টি দেশে আন্তঃদেশীয় প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে একই নিয়ম ও শর্তে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী প্রেরণ করছে বলেও জানায় বোয়েসেল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



