
তবে পুলিশ সুপারের দাবি, নদী লুটের সঙ্গে যেসব পুলিশ সদস্য জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদীতে হঠাৎ ড্রেজার লাগিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন শুরু হয়। দফায় দফায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ বালু ও পাথর লুট বন্ধ করতে পারেনি। ফলে গত শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জ সদর থানার উদ্যোগে মানুষের চলাচলের রাস্তা রেখে নদীর প্রবেশমুখে বড় তিনটি ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এতে বন্ধ হয় লুট। পরে গত দুই দিনে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে লুটের মূল হোতা বাবুল ও নিজামকে গ্রেফতার করে।
পাশাপাশি সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার বিভিন্ন নদীতে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দিক।
তবে সভা সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হলেও সেখানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বক্তব্য রাখেন। তবে দুপুর ২টায় সভায় হঠাৎ সুনামগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সময় বাধে বিপত্তি। সেখানে শিক্ষার্থীরা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলার পুলিশ প্রশাসনের যোগসাজশে চলতি নদী লুট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। পরে সভা হলে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগের দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
একপর্যায়ে উত্তাল হয়ে ওঠে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভা হল। সভায় উপস্থিত থাকা বিভাগীয় কেন্দ্রীয় দুই সমন্বয়ক মাইকে ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক আবু নাসিম বলেন, যে অন্যায় করবে, শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে কথা বলবে। দেশের যেকোনও উপদেষ্টাকে নামাতে শিক্ষার্থীদের মাত্র ২৪ ঘণ্টা যথেষ্ট।
তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি এই জেলায় নতুন যোগদান করেছি। নদী লুটের সঙ্গে যে পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দিক বলেন, সুনামগঞ্জের নদী লুট বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা নদী লুটের সঙ্গে জড়িত, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। ইজারা দেওয়া বালুমহালগুলোতে বালি আছে কিনা তা আবারও খতিয়ে দেখা হবে। যারা বালু লুট করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করে নির্দেশনা জারি করে পরিবেশ অধিদফতর।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



