খেলাধুলা

দেশের স্বার্থে আকবরের এতো বড় আত্মত্যাগ খুব কমই দেখা যায়

বোনটির নাম খাদিজা আক্তার রানি। তিনি আকবর আলীর বোন। জমজ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে একমাত্র বোনটি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন পরপারে। আকবর আলী তখন বিশ্বকাপে। দেশের জন্য খেলছেন, লড়ে চলেছেন মনেপ্রাণে। দিনটি ছিলো ২২ জানুয়ারি। দু’দিন পরেই অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ম্যাচ। আকবরের বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা সিদ্ধান্ত নিলেন খবরটি তারা জানাবেন না আকবরকে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ছেলের ওপর অনেক বড় দায়িত্ব। তাকে সে দায়িত্ব পালন করতে দিতেই সিদ্ধান্ত নিলো পরিবার। এরপর অবশ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই ম্যাচটি খেলতে হয়নি আকবরদের। বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। পরে বাবা পারিবারিক দুঃসংবাদটি জানান টিম ম্যানেজমেন্টকে। তখনো বাংলাদেশ দল কোনোভাবেই জানে না, এই টুর্নামেন্টে আকবর নেতৃত্ব দিয়ে দলকে নিয়ে যাচ্ছেন কোন অনন্য উচ্চতায়। ম্যানেজমেন্ট মনে করল, খেলোয়াড়ের হাতে যত বড় দায়িত্বই থাক না কেনো- এমন একটি ব্যক্তিগত বেদনাময় খবর কোনোভাবেই গোপন করা উচিত হবে না। তারা আকবরকে জানিয়ে দিলেন তার অতিপ্রিয় বোনটিকে চিরতরে হারানোর খবর।

এতে মুষড়ে পড়লেন আকবর। কিন্তু দেশের জন্য এতবড় দায়িত্বই তাকে শক্তি দিলো। দায়িত্বের কাছে শোক কোনোভাবেই প্রাধান্য পেলো না সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ এই ক্রিকেটারের কাছে। ফলে খেলা ও দলের নেতৃত্ব চালিয়ে গেলেন। যার ফল এখন সবার জানা। আকবর আলীর অনন্য নেতৃত্ব বাংলাদেশকে এনে দিলো অনন্য অর্জন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

সময়টা যে নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে পার হচ্ছিলো তা বলার অপেক্ষা রাখে না। টিম ম্যানেজমেন্ট তথা সতীর্থরা তখন আকবরকে দেখতে পেলেন এক অন্য ধাতুতে গড়া মানুষ হিসেবে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যানেজার কাওসার আহমেদ সে কথাই বলছিলেন । তিনি বলেন, ছেলেটির ভেতরে একটি অদম্য শক্তি কাজ করে, যা খুব কম মানুষের মধ্যেই দেখা যায়।

কাওসার আহমেদ আরও জানান, এ সময় টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থরাও সকলে আকবর আলীর পাশে দাঁড়ায়। সাহস ও শক্তি যোগায়। ‌‌’পাশে থেকে আকবরকে সকলে সান্ত্বনা দিয়েছেন, দিয়েছেন মানসিক শক্তি, যুগিয়েছেন প্রেরণাও। এমনকি টিম হোটেলে তার বোনের জন্য দোয়ার ব্যবস্থাও করেছিল বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট,’ জানান এই টিম ম্যানেজার।

চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট আকবর। এই বোনটি ছিলেন আকবরের জন্য অন্তঃপ্রাণ ।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জিটিভির রংপুর করেসপন্ডেন্ট আজম পারভেজ যান রংপুর শহরের জুম্মাপাড়ায় আকবরদের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান শোক ও আনন্দ দুইয়ের মিশেল একটি পরিবেশ। সেখানে কথা হয় আকবরের বাবা-মায়ের সঙ্গেও। তারা বলেন, এমন অবস্থায় ঠিক কী করা উচিত তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। একদিকে সন্তান হারানোর বেদনা, আরেকদিকে এই পরিবারের একটি সন্তানের হাত ধরেই বাংলাদেশ জিতেছে বিশ্বকাপ। শোক তাদের রয়েছে, কিন্ত তার পরেও এখন আনন্দ তাদের হচ্ছে। তারা গর্বিতও অনেক বেশি।

আকবরের বাবা জানান, তার যে খুব ইচ্ছা ছিলো ছেলে ক্রিকেটার হবে তা নয়, কিন্ত এখন তার মতো গর্বিত পিতা এই মূহূর্তে দেশে আর একজনও নেই। আর আকবরের মা, যার ঐকান্তিক ইচ্ছাতেই নিজেকে ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করতে পেরেছেন আকবর আলী, তিনিও আজ ভীষণ গর্বিত। তবে একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে এই মায়ের মানসিক অবস্থা এখন ভীষণ খারাপ। পরিবার জানায়, মেয়েটি সন্তান প্রসবের সময় তার কাছে আসে, তাকে হাসপাতালে ভর্ত্তি করাও হয়, কিন্ত কিভাবে কী হয়ে গেলো মেয়েটি ছেড়ে চলে গেল সবাইকে।

আকবরকে যারা দেখেছেন নিশ্চয়ই একমত হবেন, শরীরী ভাষায় শীতলতাই বেশি চোখে পড়ে। এই জুনিয়ার টাইগার দলপতি পছন্দ করেন ঠান্ডা মাথায় নেতৃত্ব দিতে। অধিনায়ক হিসেবে সামনে নয় বরং সাফল্যের নেপথ্যে থাকতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন। আঠারোর ঔদ্ধত্যকে বশে রাখা এই তরুণের হাত ধরেই প্রথমবার বিশ্বকাপ পেল বাংলাদেশ। তাতে ভীষণ খুশি তার পরিবারও। এদিকে নিজে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেলেও খাদিজা আক্তার রানি রেখে গেছেন জমজ দুই কন্যা সন্তান। তারাও হয়ে উঠছে এই পরিবারের জন্য শোক কাটিয়ে ওঠার প্রেরণা।

যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও। ডাউনলোডকরুন : http://bit.ly/2FQWuTP




জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি


আপনি আরও যা পড়তে পারেন


rocket

সর্বশেষ সংবাদ